
ইচ্ছে হলেই পিটিয়ে মারা যায়, ধর্ষণও করা যাচ্ছে অবলীলায় ; শুধুই ইচ্ছেটা জাগ্রত হলে চলে..!
নদী, ফুল, বৃক্ষ, পশু-পাখি, প্রকৃতির বাজার মন্দা আন্তর্জাতিক সভ্যাতা বিকাশের সাথে সাথে। দুঃশাসন, শোষণ, নির্যাতন, মাজলুমের ক্রন্দন শেষ হবে একদিন। ফুল, পাখি, নদীও জেগে উঠবে সেদিন।
কারণ আজকের দুনিয়ায় মানুষ মারা সবচেয়ে সহজ, ইচ্ছে হলে মারে, স্বার্থে টানাপোড়েন হলে, মত ভিন্ন, কিংবা দখলবাণিজ্যে দ্বিমত হল দ্বিধা নেই মেরে দেয়।
দিব্যজ্যোতিতে খুন, ধর্ষণ, দখল, নিপীড়ন, জুলুম প্রাগৈতিহাসিক কালের স্রোতের সাথে বর্তমান বিশ্বে চলমান যুদ্ধগুলো জ্বলন্ত উদাহরণ।
কীভাবে জীবন্ত মানুষ, বসতি, বস্তি উজার, উচ্ছেদ, গুঁড়িয়ে এরা কিসের সাম্রাজ্য, কোন সভ্যতা গড়ে তুলতে চায়? প্রশ্ন সরল, উত্তর নেই কোন ঋষির কাছেও! দুনিয়াজুড়ে মানুষ হত্যা, দখল করে যারা সভ্যতা, মানবাধিকার, গণতন্ত্রের কবুলিয়াত কায়েম করতে মারণাস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান নিয়ে অন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ড দখলের উন্মাদে অবিরাম মানুষ মারে, ভূমি দখল করে, তাঁদের কাছে দীক্ষা নিতে হবে নিরীহ, স্বাধীনচেতা মানুষের! নিশ্চয় নয়। কিন্তু তারপরও জুলুৃম নিপীড়ন সহ্য করছে বিশ্বজনতার সামনে।
যেমন করে সকলের চোখের সামনে পিটিয়ে মারছে মানুষ , ধর্ষণ করছে, চুড়ান্তে তাদের লোমও ছিঁড়তে পারছে না কেউ। একটা ঘটনা সামনে আসে নানা শিরোনামে, শিরোনাম যপে যপে কয়দিন কপচানো চলে, আবার আরেকটি ঘটনা সামনে আসলে সেটা নিয়ে হইচই বেঁধে যায় চায়ের দোকানে, লোকসমাগম, সভা-সমিতির আড়ালে শব্দের বিপ্লব ধোঁয়া ছাড়ে, যার আওয়াজ পয়মন্ত রাষ্ট্রের কানে পৌঁছায় না।
দেরিতে কানে জল গড়ালে; আইন, বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে, এরকম শত, সহস্র বাণী বছর নয়, যুগের পর যুগ, শতাব্দীকাল ধরে শুনতে শুনতে কান পচে বধির কালা হয়ে গেছে ; তবুও লাখো-কোটি জীবনের গদ্যযন্ত্রণায় এতটুকু উপশম, এতটুকু ন্যায়বিচার পাওয়া যাচ্ছে না! উপরন্তু বাদীপক্ষ এজাহারের আরজি নিয়ে বছরের পর বছর দৌড়ে বেড়ায়, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী বিচারকার্য শেষ হয় না।
কতো বিচিত্র ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সবুজ শ্যামল এ বঙ্গে, রঙ্গ, তামাশা, ঠাট্টা, মশকরার, দোষারোপের মিষ্টি পান চিবোনো ছাড়া আর কিছু সাদা চোখে দেখা দেয় না। চারচোখে তাকালে চতুর্দিকে দখলদার, লুটেরা, চোর-ডাকাত-খুনির ধারালো চোখ শাসন করে যাচ্ছে অবলীলায়।
যে জীবন নির্মমভাবে শতশত মানুষের সামনে ঝরে যাচ্ছে, নির্বাক বেহাগ, বেহুদা পাবলিক রিপাবলিকের কোন স্তরে প্রতিষ্ঠিত? এরকম ব্যক্তিক, আত্মকেন্দ্রিক ভাবনায়, স্বপ্নে বিভোর।
কার কী হলো, এলে, গেলো; ভ্রুক্ষেপহীন কোটিজনতার জোরালো উচ্চারণ! প্রতিরোধ কিংবা প্রতিরোধ। সব যেনো কেমন প্রতিবন্ধী!
চারপাশ শুধু ডিলেমা, ডিসোন্যান্স: এতটুকুন সহানুভূতি নেই আমাদের অনেকের মধ্যে। হলুদ হায়েনা, শুকরের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলে! কেউ তাদের দায়িত্ব নেয় না, তবু তাদের উচিৎ শিক্ষা কেনো দেয়া যায় না? এই উত্তরও জটলায় জরাগ্রস্ত!
নতুন বন্দোবস্ত, নতুন বাংলাদেশ, ভেবেছিলাম, এবার সব জুলুম, নির্যাতন, খুন-খারাবি নিরসন হবে। উল্টো নতুন একটা ভয়ানক ইংরেজি শব্দ ‘ মব কালচার’ নাম শুনে নিজেকে পণ্ডিত মনে হয়! মব জাস্টিসের নামে বেআইনি ক্রিয়াকলাপ যে হারে বাড়ছে, তাতে শঙ্কা জাগে—কেউ মরলে গ্রাফিতি হবে, সড়কে নামকরণ পাবে, পরিবার কিছু পয়সা পাবে; ব্যস কার্যক্রম শেষ—উদ্ধার হলো যেনো পুরো দেশ!
কারোরই কোন চিন্তা নেই। একটা খুন হলে, ধর্ষণ হলে শুধু কাগুজে আলাপের জোয়ার কিংবা জাগরণই চলবে, নাকি আম্দোলন, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ একসাথে জেগে উঠবে আবারো পুরো বাংলাদেশ!
কেন? আবারও বিপ্লবের বারুদ জনতার চোখেমুখে দেখা দেয়না—
কেন, ক্যানভাসে মানুষের মিছিল হয় না?
কেনোইবা উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে খুনি, ধর্ষকের দ্রুত বিচার হয় না?
জনতা চায়, কোটি মানবতার সামনে এইসব হারামী, হারামখোর, খুনি, সন্ত্রাসীর তাৎক্ষণিক বিচার।
জগদ্দল পাথরের পাহাড় সরিয়ে ঘটনার সাথে সাথে প্রমাণ হাজির হলেও ‘ মৃত্যুর বদলে মৃত্যু ‘ কার্যকর হয় না? কেন হয় না?
কে দেবে, এই উত্তর?!
আপাত দৃশ্যমান কেউই নেই। কারণ আমরা চলছি অজানা হলুদের মসনদে, যেখানে আগে থেকে কালোঘোড়াগুলো ছোলা খাচ্ছে আরামসে!
আজ এতো হইচই, কাল আবার কোন নির্মমতা, নৃশংসতার খবরে মন উড়ে বেড়াবে আষাঢ়ের কানামেঘের মতো! শুরু হবে আবার আস্ফালন, শব্দের ঝংকারা, গদ্য-পদ্যের অহেতুক বজ্র পদাবলি; অথচ মানুষের অস্বাভাবিক মরণের কোন প্রতিষেধক নেই!যখনতখন, যাকে তাকে মরতে হবে।
কারণ, একএকদিন একেক ধরনের নতুন স্বাদের সন্দেশ আসবে, রিপাবলিকগণ বেশিরভাগ সেদিকে সাঁতরাবে, দৌড়াবে, তবু সুগন্ধি সন্দেশের স্বাদ ভোলা যাবে না!
তবে একটা কথা সকলের মনে গেঁথে রাখো, এরকম চলতে চলতে পুরো দেশ, পুরো পৃথিবীই একদিন পরকালের সরণি বেয়ে পৌঁছে যাবে শেষ গন্তব্যে। সেদিন যার যার হিসাব, খতিয়ান সহ হাজির হতে হবে। নির্ঘাত ঘাই গুঁতো খেয়েই এসবের উত্তর ও হিস্যা বুঝিয়ে দিতে হবে। নিরীহদের হাতে কেবল আছে এই এক শান্ত্বনা!
মানুষ মরলে, নির্যাতিত হলে দেয়ালে, দেয়ালে, মননে স্বননে গ্রাফিতি হয়! নিঃস্ব হয় পরিবার-পরিজন। এ ব্যথা রাষ্ট্র কাঠামোর কোন্ সংস্কারে লেখা থাকবে?
এঁকে যাও, যতো পারো গ্রাফিতি—
মানুষের মরণ, ধর্ষণ, খুন, নির্যাতনের প্রতিকৃতি।
আসবে কালোরঙা মিছিল, সেদিন পৃথিবীর তাবৎ অন্যায়, জুলুম, নিপীড়ন জালিমরা ফেরৎ পাবে।
এঁকে যাও শিল্পী, যতো শোষিতের গ্রাফিতি ;
এখানেই জাগৃত থাকুক সকল মজলুমের ইতিউতি।
