
- লিটন আব্বাস
একজনের দায় আরেকজনের উপর চাপিয়ে, এইযে ডিলেমা, ডুগি-ডিগনিটি, দায়িত্বহীন কথা বলে দোষারোপের বয়ান তৈয়ার করে মুখ দিয়ে যে শব্দচয়ন করিতেছেন কর্তা; জানেনতো, এই কপচানো বয়ান ভ্যানওলারাও শুনতে চায় না এখন।
কারণ, প্রত্যেক জনগণ ব্যাপক সজাগ ও সচেতন। শুচিসন্দেশ কিংবা বয়ানিপানের পিক আর দয়া করে কোন রাজনৈতিক দল ফেলবেন না। তাহলে অই যে, ফ্যাসিস্ট পতনের মতো যেখানে, সেখানে দামহীন, দয়াহীন পরে থাকতে হবে। জনগণের মূল্যায়ন পাবেন না। ভোট কিন্তু একেকজননের একেেকটাই; বিবিধ ভোট কাউন্ট ও কালেজশন কিংবা কাটাকাটি করার জন্য কোন কমিশন, ব্যুরেক্রেট বসে নাই।
জোর করে কেটেও নেওয়ার উপায় নেই; সুতরাং, ভদ্র মহোদয়, মহোদয়াগণ; বয়ানের পূর্বে খুনখারাবি, ধর্ষণ, জোরজুলুমের বিচারের বন্দোবস্ত করুন। যারা জুলাই অভ্যুত্থানের নৈয়ায়িক, তারাও নিবন্ধিত হওয়ার আগেই দেশ থেকে খুন-ধর্ষণের বিচার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য, মব-কালচার নিশ্চিহ্ন করার জন্য ম্যায়খানায় আবার নামুন দরকার পরলে।
ইসলামি দলগুলো মানবতার মূর্ত প্রতীক হয়ে আসুন। খুনি, ধর্ষক, দখলদার, লুটেরা, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন একযোগে নেমে একসপ্তাহর মধ্যে মিটফোর্ডের খুনিদের এবং গত কয়েকমাস আগে ধর্ষিত আছিয়ার জুলুমবাজদের ফাঁসিকাষ্ঠে না নেয়া পর্যন্ত সংহত হয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করুন। জনগণ এই ক্রান্তিলগ্নে, এমনকি দেশের সকল সংকটময় পরিস্থিতিতে আপনাদের সকলকে একজায়গায় একতাবদ্ধ দেখতে চায়। জনতার হৃৎকম্প বুঝুন। আর ডিসোন্যান্সের সুর তুলে পায়া ধরে টানাটানি কইরেন না। কারণ ইন্টেরিমের পায়া হেলেনদোলনের মতো, ভিতও নড়বড়ে, সীমাবদ্ধ তাদের বাস্তবায়নযোগ্য ক্ষমতা। যদি আপনারা সকল রাজনৈতিক দল সব ভুলে, এই সাময়িক সরকারকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যথাযথ আইন প্রয়োগে ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন; ভালবাবে নিবে সবাই। জনগণ সেটাও খুব ভাল করে টের পাবে সেব্যাপারেও।
নতুন বাংলাদেশে কোন জালিম, জল্লাদ, কসাই, সন্তর্পণে সন্ত্রাসীর আনাগোনা, জবরদখল, লুটপাট, দুর্নীতি এবং বৈষম্য —আঠারো কোটি জনতা মেনে নেবে না। এই জনতা জানে, বৃহৎ দলগুলোর কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে নেতা -কর্মীর সংখ্যা দশ-বারো লাখের অধিক নয়। বাকি আঠারো-উনিশ কোটি সব সমর্থক।
অতএব, জনগনই রিপাবলিকের মূল পাবলিক, মূল কাঠামোর আধিকারিক, ক্ষমতা আসলে তাদেরই টিপ-ছাপে।
তাই যে কোনো খুনে, ধর্ষণে সকল দল, মত রাজপথে একত্রে নেমে কাঁপিয়ে দিন!
জুলাইয়ের শেষদিকে এবং আগস্টের এক, দুই, তিন, চার তারিখের মত দেখিয়ে দিন, সংকটে সকলেই এক।
সাময়িক সরকার আগে মবিং পুরোপুরি বন্ধ করে, খুন-ধর্ষণের বিচার একমাসের মধ্যে করে দিলে, নতুন করে এইসকল ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না, ইনশাআল্লাহ।
একটা দৃষ্টান্ত তৈরির উদাহরণ তৈয়ার করে দেখান।
আইন, মানুষের জন্য। নৃশংস, বর্বর ঘটনার জন্য একমাসই অধিক সময়। যদি দ্রুত আইনে এরকম বিচার করার উদাহরণ ও বাস্তবায়ন দেখানে যায়; অপরাধপ্রবণতা সিকির নিচে নেমে আসবে।
যে পরিবার তার পিতা হারিয়েছে, উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়েছে যে স্ত্রী ; একবার আপনারা নিজেকে সেই সিটে বসিয়ে উপলব্ধি করুন, বুঝতে পারবেন; কতোটা হৃদয়বিদারক ঘটনা, কতোটা যন্ত্রণা নিয়ে বাদীপক্ষগণ বছরের পর বছর আদালতপাড়ায় ঘোরে ন্যায়বিচারের জন্য।
আপনাদের বলা মানেই, আপনারাই সব, আইন তৈয়ার ও প্রয়োগকারক—যে কারক, ব্যাকরনে নেই।
দিনশেষে এই দেশ চালাবেন আপনারাই; কিন্তু দেশের ভেতর থাকা জনগণকে পিঁপড়ে জ্ঞান করবেন না দয়া করে।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। সুবিচার করুন। মানবতার পক্ষে অবস্থান নিন। মানুষের পরিচয় দিন।
দেখবেন আপনারাই রাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্মানিত, ক্ষমতাবান।
সুতরাং,
এই অসহনীয় সিনারিও যেনো আর না ঘটে, সকলে একজায়গায় বসে দেখান দেখি, বড় যিনি, দায়িত্বও তারই বেশি। সম্মান দিলে সম্মান মেলে।
পাওয়ার গেলেও যেনো সে সম্মান বজায় থাকে, সেরকম কাজ করুন। আলোকিত হন। আলোয় ভালোয় ভরপুর করুন এই দেশকে। মানুষের উপর ইনসাফ করুন।
[লেখক: কবি, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক]
