শনিবার, এপ্রিল ১৩Dedicate To Right News
Shadow

জন্মদিনে টিয়া পাখির ঠোঁটে শিল্পীদের চিঠি পেলেন তাপস!

Spread the love

জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায়, চমকে দেয়া বৈচিত্রময় শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন গুণী কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপস। ৮ নভেম্বর তার জন্মদিনের প্রথম প্রহরে গানবাংলা টেলিভিশনের কার্যালয় যেন হয়ে উঠেছিলো সংগীতশিল্পীদের মিলনমেলা।

দেশবরেণ্য ও জনপ্রিয় শিল্পীদের উপস্থিতিতে ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শিল্পীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাকে।

তবে, শুধু ফুলেল শুভেচ্ছায় সীমাবদ্ধ থাকেনি জন্মদিনের আয়োজন। গানবাংলা টেলিভিশনের আয়োজনে চমকে দেয়া শুভেচ্ছা বার্তায় দেশের কিংবদন্তি ও অগ্রজ শিল্পীরা মূল্যায়ন করেন দেশের সংগীতাঙ্গনে তাপসের ভূমিকা ও অবদানের কথা।

দেশের সকল ব্যান্ডের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ব্যান্ডতারকারা। শুভেচ্ছা জানান তরুণ সংগীতশিল্পীরাও। একজন শিল্পী, একজন সংগীত পরিচালক ও গানবাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দেশের সংগীতকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে তাপসের প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান তারা।

অগ্রজদের মধ্যে কৌশিক হোসেন তাপসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আলম খান, আবদুল হাদী, রফিকুল আলম, খুরশীদ আলম, শাহীন সামাদ, আবিদা সুলতানা, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, কিরণ চন্দ্র রায়, ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, অদিতি মোহসীন প্রমূখ।

শুভেচ্ছা বার্তায় গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, “কৌশিক হোসেন তাপস, একটি নাম নয়, তার নাম শুনে মনে হবে যেন একটি প্রতিষ্ঠান। আমাদের সংগীতকে প্রসারিত করে দেয়ার জন্য সে অবিরাম সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাপসের জন্য প্রার্থনা করে বলতে চাই, আল্লাহ যেন তার আয়ু দীর্ঘায়ূ করে দেয়। ”

আলম খান বলেন, “সবসময় নতুন কিছু সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। আমাদের পুরনো গানগুলোকে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করে, একটা বিশাল পরিবর্তন এনেছে। তাপসের কাছে আমার প্রত্যাশা-যারা নতুন শিল্পী, একেবারেই যাদেরকে কেউ চেনে না, এরকম কিছু শিল্পী সে নিয়ে আসুক। শুভ জন্মদিন তাপস।”

রফিকুল আলম বলেন, “তাপসকে দেখে আমার প্রথম যেটা মনে হয়েছিলো-বাংলায় যে একটা কথা আছে, গানপাগল। তার যথার্থ উদাহরণ-তাপস। কখনো কম্পোজার হিসেবে, কখনো অরগানাইজার হিসেবে, কখনো গায়ক হিসেবে, পেট্রোনাইজার হিসেবে শিল্পীদের প্রতি তার বেশ জোরালো ভূমিকা আছে। আমি বিশ্বাস করি, তার আরও উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাবে। এত সুন্দর করে এত অরগাইনডভাবে সে যে কাজ করে, শিল্পীদের সম্মানের জায়গাটা, শিল্পীদের সৃজনশীলতার জায়গাটা, কোন শিল্পী তাপসের সাথে কাজ করে বলতে পারবে না যে, আমার ভালো লাগে নি। এটিই হচ্ছে তাপসের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। তাপসের আগামী দিনগুলো সুন্দর ও শান্তিময় হোক।”

সৈয়দ আবদুল হাদী বলেন, “আমাদের দেশের সংগীত, সংগীত প্রযোজনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছেন। তার সৃজনশীলতা দিয়ে সংগীত শিল্প তথা সংগীত অনুষ্ঠান প্রযোজনাকে আরও উন্নততর করে তুলবেন এ প্রত্যাশা রইলো। তাপসকে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

ফাতেমা তুজে জোহরা বলেন, “বয়সতো তার এমন কিছু হয়নি। এত কম বয়েসে এত সুন্দর করে চ্যানেল পরিচালনা করছে, বিশেষ করে গানগুলো পরিচালনা করছে। আমাদের ট্র্যাডিশনাল ফর্ম অফ মিউজিক, সেটা কিন্তু চেঞ্জ হয়ে, সত্যি সত্যি ‘উইন্ড অফ চেঞ্জ’; কথাটা খুবই সংগত। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে গানগুলো ভালো হচ্ছে। বাংলা গানের রূপটা একটু পরিবর্তিত হলে পরবর্তী প্রজন্ম খুব ভালোভাবে নেবে, খুব আলোড়িত হবে। তার ক্রিয়েটিভিটিকে আমি খুব সাধুবাদ জানাই।”

অনুষ্ঠানে কৌশিক হোসেন তাপসের কাছে লেখা উপস্থিত শিল্পীদের চিঠি উন্মোচন হয়। টিয়া পাখির ঠোঁটে নির্বাচিত চিঠি তাপসের হাতে তুলে দেন ঐতিহ্যবাহি ভাগ্যগণক জ্যেতিষী। আবেগভরা চিঠির পাশাপাশি নানা ধরণের মজার চিঠিও পাওয়া গেছে শিল্পীদের পক্ষ থেকে। জন্মদিন উপলক্ষে চিঠি লিখেছেন সংগীতশিল্পী ঐশী, লুইপা, পারভেজ, অটামনাল মুন, আনিকা, ডোরা, রেশমি, শামীম, হাসিব, গানবাংলা পরিবারসহ প্রমুখ।

শুভেচ্ছায় সিক্ত তাপস বলেন, “প্রতিবার জন্মদিনে ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমি বলি এরপর থেকে দ্বিগুণ শক্তি ও গতি নিয়ে আমি পথ চলবো, এবার বলছি দশগুণ গতিতে পথ চলতে হবে আমাদের। করোনার মহামারি আমাদের যতটুকু ক্ষতি করেছে তা পুষিয়ে নিয়ে সামনে এগুতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে দাঁড় করাবো। আমাদের শিল্পীরা একদিন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতবে এই লক্ষ্য রেখে বাংলা গান নিয়ে সামনে এগুতে চাই। ”

উপস্থিত শিল্পী ও স্বজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গানবাংলা টেলিভিশনের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নী।

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন-হামিন আহমেদ, এস আই টুটুল, বালাম, অর্নব-সুনিধি, মিলন মাহমুদ, মেজবাহ, তাশফি, অদিত, পুতুল, দোলা, কিশোর, নোলক বাবু, পূজাসহ অর্ধশতাধিক শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

জন্মদিনে কৌশিক হোসেন তাপসকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে রেডিও টুডে ও ঢাকা এফএম। সারাদেশের সাতটি বিভাগ থেকে তাপস ফ্যানস ক্লাব কেক কেটে তাপসের জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে।

এক নজরে কৌশিক হোসেন তাপস:

১৯৮৩ সালের এই দিনে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কৌশিক হোসেন তাপস। শৈশব থেকেই মূলধারার গানের সঙ্গে তার সখ্য। মাত্র আট বছর বয়সে স্বকণ্ঠে গানের অ্যালবাম প্রকাশ করে জানান দেন নিজের প্রতিভা। শৈশবে তার সঙ্গীতপ্রীতি দেখে বাবার কিনে দেওয়া কি-বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হয় সঙ্গীতে সপ্রতিভ যাত্রা। পাশাপাশি গিটার, বাঁশি ও পারকাশনে অল্প বয়সেই পারদর্শিতার প্রমাণ দেন তাপস।

বাংলার বাউল বয়াতি ও লোকশিল্পীদের সঙ্গে তার অকৃত্রিম আত্মিক যোগাযোগ একদিকে তাকে বাংলার সমৃদ্ধ লোকসঙ্গীত ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীতের দিকপালদের সঙ্গে ওতপ্রোত সম্পর্ক তাকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত ধারায় ঋদ্ধ করেছে।

তাপসের রচিত ও সুরারোপিত গানে যেমন কণ্ঠ দিয়েছেন দেশবরেণ্য শিল্পীদের অনেকেই, তেমনি অংশ নিয়েছেন তার নির্দেশিত মিউজিক ভিডিওতে। সুরস্রষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বহু মিউজিক ভিডিওর প্রযোজনা ও পরিচালনা, বহু সঙ্গীত রচনা, সুরারোপ ও দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনসার্টে সঙ্গীত পরিবেশন তার অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করেছে।

অশান্ত বিশ্বকে শান্তির আহ্বান জানাতে তাপসের ‘মিউজিক ফর পিস’ স্লোগানটি বিশ্বময় ছড়িয়েছেন ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। যাতে একাত্মতা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৪১ জন খ্যাতনামা মিউজিশিয়ান। সংগীত পরিচালক ও শান্তির দূত হিসেবে এমন অবদান রাখায় ইতিমধ্যে তিনি অর্জন করেছেন দাদাসাহেব ফালকে এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড (২০১৮) ও মাদার তেরেজা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। সুরকার হিসেবে ২০১৩ সালে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান ওয়ান মোর জিরো’র প্রধান নির্বাহী হিসেবে একদশক ধরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে প্রশংসিত হয়েছেন গুণী এই শিল্পী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *