শুক্রবার, জুন ২১Dedicate To Right News
Shadow

বাংলাদেশের টীকাদান কর্মসূচিতে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে Gavi-কে সাংসদদের অনুরোধ

Spread the love

মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে থাকলেও, কোভিড-১৯ সংকট, স্বাস্থ্য বাজেটের পরিমাণ, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি; ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে সাম্প্রতিক সংকট মোকাবেলা ও দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে আগামী অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় টীকাদান কর্মসূচিতে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ (গ্যাভি) (Gavi, the Vaccine Alliance) কে অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদ সদস্যবৃন্দ।

৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’ ও গ্যাভি এলায়েন্স মিশন টু বাংলাদেশের মধ্যকার ‘Engaging Members of Parliament (MPs) for Strengthening National Immunization Programme’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা উঠে আসে। ফোরামের সাচিবিক সংস্থা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয় করে।
ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিয়মত সভায় দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি, টীকার প্রযুক্তি সরবরাহ করা ও স্থানীয়ভাবে টীকা প্রস্তুত করা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের লোকবল সংকট নিরসন ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে আসে।

সভায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম রুহল হক এমপি বলেন, ‘গ্যাভি আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাদের সহায়তায় আমাদের স্বাস্থ্যসেবা অতীতে অনেক উন্নতি করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের অবদান মনে রাখার মতো। ডিসেম্বরে গ্যাভি বোর্ডের বৈঠক। আমি বলবো আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যসচিবকে এবং অন্যান্য সাংসদদেরকে গ্যাভির সাথে জাতীয় টীকাদান কর্মসূচিসহ অন্যান্য ভ্যাক্সিন প্রাপ্তির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য। তাতে করে আগামী দিনগুলোতেও টীকা প্রাপ্তির বিষয়গুলো সহজ হবে।’

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘২০২৭ সালে বাংলাদেশের জন্য গ্যাভির ফান্ডিং শেষ হবে। আমরা গ্যাভির কাছে এই ট্রাঞ্জিশন পিরিয়ডটা অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত চাই। আমি মনে করি স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ব্যাপারে প্রস্তুত থাকতে হবে। একটা টাস্কফর্স গঠন করতে হবে, রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা বিনামূল্যে ভ্যাক্সিন চাই না; আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে চাই।’
গ্যাভির কান্ট্রি ম্যানেজার, নিলগান আয়দোগান বলেন, ‘আমরা সংসদ সদস্যদের আলোচনার বিষয়গুলোকে আমাদের অ্যাকশন পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করছি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি খুব দ্রুত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে আমাদের নীতি অনুযায়ী অর্থায়ন কমে গিয়ে থাকে। তবে আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি এবং সংসদ সদস্যবৃন্দদের পরামর্শগুলো বিবেচনা করার সুযোগ রাখছি।’

সভাপতিত্বের বক্তব্যে অধ্যাপক ডাঃ মিল্লাত এমপি বলেন, ‘বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে আমাদের বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় কম, কিন্তু যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তারও পুরোটা ব্যবহার হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমাদের দাবি জিডিপির অন্তত ২% স্বাস্থ্যখাতের বাজেট দেওয়া হোক। তবে আমরা গর্বিত যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছি। সেখানে আমাদেরকে সেভাবে তৈরি করতে হবে। আমাদের পার্টনারকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাদেরকেও বোঝাতে হবে ট্রাঞ্জিশন স্মুথ করা দরকার।’

এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় টীকাদান কর্মসূচি, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গ্যাভির অবদান এবং ভবিষ্যত অর্থায়নের সুযোগ ইত্যাদি নিয়ে পৃথক পৃথক তিনটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, ও গ্যাভি সিএসও স্টিয়ারিং কমিটির ভাইস-চেয়ার ডাঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, গ্যাভির কান্ট্রি ম্যানেজার, নিলগান আয়দোগান ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচীর (EPI) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর, ডাঃ মোঃ শামসুল হক।

সভায় অন্যান্য সংসদ সদস্যবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহীদুজ্জামান সরকার এমপি, ড. আব্দুস শহীদ এমপি, আরমা দত্ত এমপি, হাবিবা রহমান খান এমপি, কানিজ ফাতেমা বেগম, উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি, জাকিয়া তাবাসসুম এমপি, অপরাজিতা হক এমপি, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম এমপি, অ্যাড. সৈয়দা রুবিনা হক এমপি। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইপিআই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি এলায়েন্স মিশন টু বাংলাদেশ, বিশ্ব ব্যাংক, ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ (গ্যাভি) (Gavi, the Vaccine Alliance) বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য ও ভ্যাকসিন নিশ্চিতকরণের অন্যতম প্রধান দাতাসংস্থা। সংস্থাটির সার্বিক সহায়তায় সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সিএসও’দের সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা প্রাপ্তিতে অবদান রেখে থাকে। ২০০১ সাল থেকে গ্যাভি বাংলাদেশে শিশু টীকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করে আসছে। পাশাপাশি কোভিড-১৯ টীকাদান কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন দেশে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানও সংস্থাটির অন্যতম কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *