সোমবার, জুলাই ১৫Dedicate To Right News
Shadow

জাবিতে র‌্যাগিং আতঙ্কে নবীন শিক্ষার্থীরা

Spread the love
  • পংকজ ফ্রান্সিস, জাবি প্রতিনিধি

উচ্চশিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা হোঁচট খাচ্ছেন শুরুতেই। ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই ‘র‌্যাগিং’ নামক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। হলে তৈরি করা বিশেষ টর্চার সেল, শ্রেণিকক্ষ, থাকার হল, খাওয়ার ক্যান্টিন এবং কখনো কখনো পাঠকক্ষেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার-এমন শিক্ষার্থীদের অনেকেই হল ছেড়ে মেসে উঠেছেন। কেউ আবার বাধ্য হয়েছেন ক্যাম্পাস ছাড়তে। নির্যাতনে বিকলাঙ্গ হওয়া এবং প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় যুগের পর যুগ চলছে এই অপসংস্কৃতি। ‘ম্যানার’ শেখানো ও ‘গ্রুপ মিটিং’-এর নামে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা জুনিয়রদের সঙ্গে এমন অশোভন আচরণ করছেন।

সময়ের পরিক্রমায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীও হয়ে উঠছেন নিপীড়ক। এতে র‌্যাগিং আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের কোমল মনে যে দাগ কাটছে, এর প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষাঙ্গনের র‌্যাগিংয়ের এ অবস্থায় ছাত্রদের হিংস্র মানসিকতার কিছু বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তাতে আমরা হতাশ হচ্ছি। এটাকে শক্তভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বন্ধ করতে হবে। বুয়েটের একটা ছেলের জীবন গেল, আরও কত জায়গায় জীবন আশঙ্কার মধ্যে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ অত্যন্ত বেশি প্রয়োজন।

শিক্ষাঙ্গনে উচ্চমানসিকতার চর্চা যেখানে করবে, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাবে, সেখানে এই অধঃপতন গ্রহণ করা যায় না। আমরা চাই, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সমাজ এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সাহায্য করবে। মূল্যবোধহীন শিক্ষা নিয়ে তো কোনো লাভ হবে না।

ক্যাম্পাসগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণত আচরণ শেখানো ও পরস্পরের পরিচিতির জন্য শিক্ষার্থীদের একত্র করে ‘গেস্টরুম’-এ ডাকা হয়। সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা অনেকটা নিয়মিত। শয়নকক্ষ, আহারকক্ষ, অতিথিকক্ষ, গণরুম ও খোলা জায়গায় শিক্ষার্থীদের জড়ো করে করা হয় নির্যাতন।

অনেক সময়ে ডেকে নেওয়া হয় আলাদাভাবে। কেউ ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিতে যেতে না পারলে, বাড়ি যেতে চাইলে ‘গেস্টরুমের বড় ভাইদের’ কাছ থেকে ছুটি নিতে হয়। সাধারণত রাতেই এসব রুমে ডাকা হয়ে থাকে।

সেখান থেকে দেওয়া নির্দেশের কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় রাতে না ঘুমিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে হয়। অনেকে আবার এভাবে দলবেঁধে ঘুরে জড়িয়ে পড়েন নানা অপকর্মে। অনেক সময় ছাত্র সংগঠনের মদদ ছাড়াও অতি উৎসাহী হয়ে সিনিয়ররা জুনিয়রদের হয়রানি করে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী বলেন , আমাদের গেস্ট রুমে আমাদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়।আমাদের মুরগি,পাখি,কানে ধরে উঠা বসা সহ নানাধরণের নির্যাতন করে।আমরা না পারি বলতে না পারি সহ্য করতে এমন এক অবস্থায় আছি।আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন,আমরা পর্যবেক্ষণ করছি হলগুলোতে, র‌্যাগিংয়ের ব্যাপারে আমাদের হল প্রশাসন সর্বদা তৎপর।আমরা র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত যেকোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

প্রক্টর আ. স.ম ফিরোজ -উল -হাসান বলেন, র‌্যাগিং অব্যশই একটা আতঙ্কের নাম নবীন শিক্ষার্থীদের। নবীন শিক্ষার্থীদের কোনো ভয় নাই ,তারা যেকোনো সময় এরকম হেয়নেস্থার শিকার হলে আমাদের যেনো বলে,আমরা অভিযুক্তদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *