সোমবার, জুন ২৪Dedicate To Right News
Shadow

শিক্ষক ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করলে সেশনজ্যাম জাদুঘরে চলে যায়: উপাচার্য

Spread the love

শিক্ষক ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করলে সেশনজ্যাম জাদুঘরে চলে যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর বলেছেন, আমি এখানে যোগদানের পর আমরা প্রথমবারের মতো একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করেছিলাম। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সে ক্যালেন্ডার অনুসারে গত তিন বছর ধরে শিক্ষকরা ক্লাশ-পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজনমুক্ত করেছে। আপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষক ও প্রশাসন যদি যৌথভাবে কাজ করে তাহলে সেশনজ্যামের ধারণা জাদুঘরে চলে যায়। আমরা ইতোমধ্যে সে কাজে অনেকখানি সফল হয়েছিল। ২১ সালের পর থেকে কোনো সেশনজ্যাম নাই। যেটুকু আছে তা কোভিডকালীন সময়ের। সেটিও কাটিয়ে উঠতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে পিএইচ.ডি. সম্পন্নকারী ৪৪জন শিক্ষক, গ্রন্থমেলায় গ্রন্থপ্রকাশকারী ৬জন শিক্ষক লেখক ও চাকরিকাল সম্পন্ন করে অবসরে যাওয়া দুইজন শিক্ষককে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের নানাবিধ সংকট,সীমাবদ্ধতার মধ্যদিয়ে কাজ করতে হয় জানিয়ে উপাচার্য বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নানাবিধ সংকট,সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরেও প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের অনেক সময় কঠোর হতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জনবলের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য মহোদয় বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে মাত্র ৪জন শিক্ষক আছে, মার্কেটিংয়ে ৪জন, ব্যবস্থাপনায় মাত্র ২জন শিক্ষক আছেন। এই দুই চারজন শিক্ষক নিয়ে একটি বিভাগ পরিচালনা কতটা কষ্টের সেটি আমরা বুঝতে পরি। দুজন শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত পাঁচটি ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে শিক্ষকরা নিজেদের গবেষণা কী ভাবে করবেন, যেখানে দুজন শিক্ষক থাকেন তারা কীভাবে নিজেদের ক্যারিয়ারের উন্নতি করবেনÑ এপ্রশ্নও আমাদেরও। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি বিশ্বমানের করতে চাই তাহলে প্রথম দরকার জনবল। বিশেষকরে প্রথমে হলো শিক্ষক। তারপরে অন্যরা। কেননা শিক্ষকদের অপ্রতুলতা থাকলে শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যহত হতে বাধ্য।
সকল সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে শিক্ষকদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, আপনারা গুণগত মানসম্মত গবেষণার দিকে এগিয়ে যান, বিশ্ববিদ্যালয়কে সেবা করুন। অবশ্যই একদিন বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে আপনার পরিচয় হবে; আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় হয়ে উঠবেন। আমাদের সে রকম ধ্রুব তারকা দরকার, যে ধ্রুব তারকা শিক্ষক দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির দৃষ্টি আকর্ষন করে উপাচার্য বলেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি একটি সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় করতে হয়, যদি ত্রিশালে নতুন টাউনশিপ করতে চাই। যদি এইখানে একটি বিদ্যায়তনিক সুন্দর পরিবেশ করতে চাই তাহলে অবশ্যই এখানে একটি কলেজিয়েট স্কুল দরকার। যেখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠদান হবে। আর এজন্য ইউজিসিকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে।
সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় উপাচার্য শিক্ষক সমিতি ২০২৪ এর নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। শিক্ষকদের যেকোনো সংকটে, সীমাবদ্ধতা অতিক্রমে, উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে বলেও জানান।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. তুষার কান্তি সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. হাসিনা খান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *