প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়নের প্রসারে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিসঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্ক (বিবিডিএন)-কে সাথে নিয়ে “এমপাওয়ারঅ্যাবিলিটি: পাওয়ারিং এভরি অ্যাবিলিটি” শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই সম্মেলনে সহযোগিতা করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং জার্মান সহযোগী সংস্থা জিআইজেড।
সম্মেলনটি ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) উদ্যোগ “অপরাজেয় আমি”-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এইকনফারেন্সের লক্ষ্য হলো, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের অর্থপূর্ণ আলোচনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর জন্য কার্যকরী কৌশল তৈরি করা।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনশ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ অপারেটিং অফিসার সাব্বির হোসেন, আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরটুওমো পাউটিয়াইনেন,জিআইজেড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অব বাংলাদেশ ড. আন্দ্রিয়াস কুকএবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ারস’ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আরদাশির কবির।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা গ্রুপ, নাগরিক সমাজের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।
ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি শুধুমাত্র একটি নীতিগত বিষয়ই নয়, বরংএটি এখন একটি মৌলিক মানবাধিকারও, যেখানে আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানেআমরা এমন একটি মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে আমাদের সমাজকে নতুন রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, শারীরিক সক্ষমতা বা অক্ষমতা নির্বিশেষে সমাজের সকল ব্যক্তি যেন তাঁদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পান।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো, সমাজে বিদ্যমান বাধা-বিপত্তিগুলো দূর করে এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে জাতীয় উন্নয়নে প্রত্যেকেই অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।”
সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা, ডিসঅ্যাবিলিটি-ইনক্লুসিভ দক্ষতা ও কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানজনিত সমস্যা সমাধানের কৌশল নিয়ে তিনটি প্যানেল ডিসকাশনের আয়োজন করা হয়।
প্যানেলিস্টদের মধ্যে ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস, বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশন, সিআরপি, উর্মি গ্রুপ, রবি আজিয়াটা, সাইটসেভার্স, লো মেরিডিয়েন হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস, সিডিডি, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এসিআই লজিস্টিকসের প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় ইন্ডাস্ট্রি লিডাররা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ওয়ার্কফোর্স গঠনের লক্ষ্যে পলিসি ও এর বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে থাকা ব্যবধান কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁরা নিজেদেরযুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বলেন যে,অন্তর্ভুক্তিমূলক ওয়ার্কফোর্স তৈরি শুধুমাত্র একটি নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং কৌশলগত সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জনেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
এ ব্যাপারে উন্নয়ন পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প এবং শক্তিশালী সরকারি নীতি-সহায়তারওপর জোর দেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, পর্যাপ্ত সহযোগিতার মাধ্যমেএনজিও এবং অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থাগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারবে।এর ফলেদেশব্যাপী সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন আসবে।
ব্র্যাক ব্যাংক “অপরাজেয় আমি”-এর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলন“এমপাওয়ারঅ্যাবিলিটি” বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নের ব্যাপারে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। কনফারেন্সে রিয়েল-টাইম অনুবাদ এবং ব্রেইল শিডিউল-ব্যবস্থা সকলের জন্য সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) উদ্যোগের মিশন হলো,সমাজের বিদ্যমান আর্থিক বাধা এবং ট্যাবু দূর করে সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে সকলে তাঁদের সম্ভাবনার সঠিক বিকাশ ঘটিয়ে অর্থবহ জীবন-যাপন করার সুযোগ পান। ব্যাংকটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সবাই তাঁদের সক্ষমতা-নির্বিশেষে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন এবংসফল হবেন।