Monday, September 28সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

বিচ ফুটবল থেকে বাউল গান: দুই দিনের উৎসবে মাতবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

সৈকতজুড়ে ফুটবলের উন্মাদনা, আকাশে রঙিন ঘুড়ি আর সন্ধ্যায় বাউল গানের সুর। অক্টোবরের শেষভাগে এমনই উৎসবের সাজে সাজবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। দুই দিনের এই আয়োজন করছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’-এ কার্নিভালের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. গনী উল আজম।

আয়োজকেরা জানান, কুয়াকাটাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও পরিচিত করা, এর পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং স্থানীয় মানুষকে পর্যটন অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার করাই এই কার্নিভালের মূল লক্ষ্য।

চেয়ারম্যান বলেন, একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগই কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় পরিচয়। এর সঙ্গে উপকূলীয় প্রকৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনধারা মিলে এটি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য।

কার্নিভালের প্রথম দিন ২৩ অক্টোবর সকালে স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থীদের বিচ ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের উপস্থিতিতে হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। দিনভর চলবে সি-ফুড ও আদিবাসী খাবারের উৎসব, বিচ ফুটবলের ফাইনাল, লেবুর বনে ভ্রমণ, ঘুড়ি উৎসব এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। সূর্যাস্ত উপভোগের পর সন্ধ্যায় থাকবে পুঁথিপাঠের আসর, রাখাইন সম্প্রদায়ের পরিবেশনা, দেশীয় ফ্যাশন শো ও মিউজিক কনসার্ট।

দ্বিতীয় দিন ২৪ অক্টোবর ভোরে বিচ ম্যারাথনের মধ্য দিয়ে দিনের শুরু হবে। এরপর গঙ্গামতির চরে সূর্যোদয় দর্শন ও পিঠা উৎসব, চর বিজয়ে আনন্দ ভ্রমণ এবং সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় বাউল গানের আসর, দেশীয় ফ্যাশন শো, স্থানীয় শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কমেডি শো ও শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা থাকবে। সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্নিভালের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

চেয়ারম্যান সামীমুজ্জামান বলেন, এই কার্নিভালকে নিছক বিনোদনের আয়োজন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কুয়াকাটাকে টেকসই, বহুমাত্রিক ও স্থানীয় মানুষকেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকৃতির পাশাপাশি এখানকার খাবার, পণ্য, খেলাধুলা ও জীবনযাত্রাও পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষ পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে। হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, গাইড, পরিবহনকর্মী, হস্তশিল্পী ও খাদ্য উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যটন বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কুয়াকাটাকে আরও পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে সরকারি-বেসরকারি খাতসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কুয়াকাটা যেন শুধু একটি সমুদ্রসৈকত হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গন্তব্য হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি পায়, সেই প্রত্যাশার কথা জানান চেয়ারম্যান। কার্নিভালের প্রচার ও ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে গণমাধ্যম, বিশেষ করে ডিজিটাল ও অনলাইন মাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কার্নিভালের বিভিন্ন পর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, চিত্রনায়ক নিরব, সংগীতশিল্পী লেমিস, তানজিয়া জামান মিথিলা ও আয়শা মৌসুমীসহ সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের আরও অনেকে। এ ছাড়া পর্যটন করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আয়োজনের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট, ঢাকা টকিজ ও সানফ্লাওয়ার ৩৬০-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।