Tuesday, June 9সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

বিসিটিআইয়ের উদ্যোগে ডিআইইউতে নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্রে নারী সুরক্ষা ও দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে গল্পবলার ধরণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন (জেএমসি) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে “নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্রে নারী সুরক্ষা ও দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে গল্পবলার ধরণ (কনসেপ্ট টু স্টোরি টেলিং)” শীর্ষক একটি কর্মশালা ৯ জুন ২০২৬ সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কবি নজরুল এডুপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চলচ্চিত্রে নারীর উপস্থাপন, নারী সুরক্ষা, দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে গল্প নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একাডেমিক ও পেশাগত পর্যায়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. আফতাব হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক জনাব লাবিব নাজমুছ ছাকিব। আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন প্রফেসর ড. লিজা শারমিন, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক নার্গিস আক্তার এবং চিত্রনাট্যকার ও গবেষক সাদিয়া খালিদ ঋতি।

প্রবন্ধে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে ‘রূপবান’, ‘সারেং বউ’, ‘গেরিলা’ এবং ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর মতো চলচ্চিত্রে নারীর শক্তিশালী, সংগ্রামী ও মানবিক চরিত্রায়নের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে চলচ্চিত্রে নারীর প্রতি বিদ্যমান কিছু প্রচলিত স্টেরিওটাইপ এবং সেগুলো অতিক্রম করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আফতাব হোসেন বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতায় উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা তরুণ নির্মাতাদের সৃজনশীল ও সমাজসচেতন চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিসিটিআই নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি নারী সুরক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় প্রফেসর ড. লিজা শারমিন বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতানির্ভর নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক নার্গিস আক্তার বলেন, চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রকে আরও বাস্তব, মানবিক ও বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। তিনি নারী সুরক্ষা ও মর্যাদার বিষয়টি চলচ্চিত্রের গল্প ও নির্মাণ প্রক্রিয়া উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

চিত্রনাট্যকার ও গবেষক সাদিয়া খালিদ ঋতি বলেন, একটি শক্তিশালী চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে গল্প। তিনি দেশীয় সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং নারীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে গল্প নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।