Thursday, September 24সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ভাড়া বকেয়া, বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির অভিযোগ তুলেছেন রোজি খন্দকার নামে এক নারী। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রোজি খন্দকার। তিনি প্রয়াত মঞ্জুরুল আলমের স্ত্রী।

রোজি খন্দকারের অভিযোগ, তার ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া হুমায়ুন কবীর ও তার স্ত্রী নুরুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তার স্বামীর মৃত্যুর পর ওই দম্পতি বিভিন্নভাবে তাকে প্রভাবিত করে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তারা তার ফ্ল্যাটের ভাড়া পরিশোধ করেননি। এতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও জানান।

রোজি খন্দকার আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ধার নেন। এর মধ্যে তাদের ছেলের মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে অভিযুক্তরা পাশের একটি ভবনে ফ্ল্যাট কিনে ফেলেন এবং একপর্যায়ে বাসায় তালা ঝুলিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে তার বাড়ির দলিলপত্র, ব্যাংক-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ একটি ফাইল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন রোজি খন্দকার। অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রোজি খন্দকার জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন এবং তার সন্তানদেরও অবহিত করেছেন। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তিরা এলাকার আরও কয়েকটি বাড়িতেও একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

রোজি খন্দকার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবীর ও নুরুন্নাহারের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।