Sunday, September 20সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

বিনোদনের নামে সিনেমায় তামাকের প্রচারণা বন্ধের আহ্বান

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে নাটক, সিনেমা, ওটিটি-তে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন এবং প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু, ২০২৬ সালের ১২টি সিনেমায় ৭৫১টি ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়েছে, তন্মধ্যে ৬টি সিনেমায় কৌশলে তামাক পণ্যের ব্রান্ড দেখানো হয়েছে, যা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০০৫ এর সুষ্পষ্ট লঙ্ঘণ।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মানস’ আয়োজিত “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন বাস্তবায়নে করণীয় : প্রেক্ষিত নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম” শীর্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় উক্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় বক্তারা বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ওটিটিসহ ইমার্জিং মিডিয়ার জন্য আলাদা গাইডলাইন প্রণয়ন এবং সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সভাপতিত্ব করেন ‘মানস’ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। এতে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহাদী আজাদ মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, জেষ্ঠ সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস) এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানস এর কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম রিনা ও সঞ্চালনা করেন সিনিয়র প্রজেক্ট এন্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।

ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ধূমপান ও তামাক ব্যবহার ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ প্রাণঘাতি রোগ এবং বছরে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। তরুণদের তামাকের নেশায় আকৃষ্ট করতে তামাক কোম্পানিগুলো নানা বিপণন অপকৌশল বেছে নিয়েছে। সিনেমা, নাটক ও ওয়েবসিরিজেও নায়ক, নায়িকা দ্বারা ধূমপানকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১২টি সিনেমা পর্যবেক্ষণে ৬টিতে ব্রান্ড প্রচারণা ও ৭৫১বার ধূমপান-তামাক সেবনের দৃশ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাক্ষস’ এ ১৯২ বার, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ এ ১৬৫ বার, ‘মালিক’ এ ৯৮ বার, ‘রকস্টার’ এ ৯৫ বার, ‘বনলতা সেন’ এ ৭১ বার, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এ ৬৪ বার ধূমপান ও তামাক সেবন দেখানো হয়েছে। তরুণদের সুরক্ষায় এসব প্রলোভনমূলক প্রচারণা বন্ধে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিনোদনমাধ্যমে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে জানান তিনি।

মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, কিশোর-তরুণদের মধ্যে তামাকের ব্যবহার বাড়ছে, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাকের প্রচারণা উদ্বেগজনক! এজন্য সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সার্টিফিকেশন বোর্ড, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ৪০ হাজার কোটি, বিপরীতে স্বাস্থ্য ব্যয় ৮৭ হাজার কোটি। তাই রাজস্বের চাইতে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকে গুরুত্ব দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মাহাদী আজাদ মাসুম বলেন, প্রিন্স সিনেমায় ১৬৫বার ধূমপান ও তামাকের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, এটি কীভাবে সেন্সর ছাড় পেল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের দৃশ্য পরোক্ষভাবে ধূমপানকে আকর্ষণীয় ও স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে, বিশেষ করে যখন জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকাদের মাধ্যমে তা দেখানো হয়। নিখিল ভদ্র বলেন, সিনেমা, নাটক ও অন্যান্য বিনোদন মাধ্যমে সিগারেট, ই-সিগারেটের দৃশ্য প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। বিনিয়োগের নামে দেশে নিকোটিন পাউচের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক জানান তিনি।

বক্তারা আরো বলেন, শিশু-কিশোর, তরুণদের তামাক ও নিকোটিন পণ্যের নেশা থেকে বিরত রাখতে তামাক কোম্পানির কূটকৌশল প্রতিহত এবং তামাক পণ্যের আইন বিরোধী প্রচার-প্রচারণা ও প্রলুব্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধে শাস্তি নিশ্চিত আনতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ প্রজন্ম নিশ্চিত এবং তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু ও সামগ্রীক ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আইনের বাস্তবায়ন জরুরি। গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারও তামাক ও নিকোটিন পণ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।