
‘ভয় নয়, সচেতনতা। বিলম্ব নয়, সময়মতো চিকিৎসা’ এই শ্লোগান নিয়ে প্যাডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর উদ্যোগে শিশু ক্যান্সার সচেতনতায় আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও ঢাকার জাতাীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের প্রাথমিক সতর্কতামূলক লক্ষণ সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সকল কর্মসূচী পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ও’কিশোর-কিশোরী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশেও শিশু ক্যান্সার একট গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাব, রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক শিশু সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আসতে পারে না। আজ শনিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে এসকল কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন বিএমইউর সম্মানিত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি এন্ড অনকোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করে পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি এন্ড অনকোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া। এসময় বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান, পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান প্রমুখসহ বিএমইউর শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগসহ শিশু অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকগণ, প্যাডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএমইউর সম্মানিত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে শিশু ক্যান্সার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।
পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি এন্ড অনকোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম বলেন, এই মাসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- ক্যান্সার শুধু বয়ষ্কদের রোগ নয়: শিশুরাও এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সালে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সেপ্টেম্বর মাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর-মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষের ধারণা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণাকে উৎসাহিত করা এবং আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি এন্ড অনকোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু ক্যান্সার মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন। হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে ভুল ধারণা ও অযথা ভয় কমানো এবং চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব কমানো সম্ভব।
অন্য বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন বা বারবার জ্বর, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, শরীরে কালশিটে দাগ বা অস্বাভাবিক রক্তপাত, হাড়ের ব্যাথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তারা জানান, বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সারের প্রকৃত সংখ্যা এখনো সম্পূর্ণভাবে জানা যায় না। কারণ দেশে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিশু ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু অনেক শিশুর রোগ সময়মতো শনাক্ত হয় না এবং অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায়ও আসতে পারে না। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসার উচ্চ বায়, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর অসুবিধা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়ক চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া-এসব বাংলাদেশের শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে এই মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত-দেশব্যাপী শিশু ক্যান্সারের তথা সংরক্ষণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, চিকিৎসার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
