
১৯৯২ সালের জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘মর্টাল কম্ব্যাট’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করা হয় একই নামের সিনেমা। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় এটি। ১৯৯৭ সালে এর সিক্যুয়েল ‘মর্টাল কম্ব্যাট: অ্যানিহাইলেশন’ মুক্তি পায়। ফাইটিং গেম হিসেবে যতটা জনপ্রিয় ছিল মর্টাল কম্ব্যাট, ছবি দুটি আবার ততটা হতে পারেনি। ২০২১ সালে মুক্তি পায় ‘মর্টাল কম্ব্যাট’। এটি দর্শকদের মাঝে ভালো সাড়া তৈরি করতে সক্ষম হয়। যার ধারাবাহিকতায় দর্শকদের জন্য আবারও সুখবর নিয়ে এসেছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স। জনপ্রিয় গেম সিরিজ ‘মর্টাল কম্ব্যাট’ অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘মর্টাল কম্ব্যাট ২’ আসছে পর্দায়। ৮ মে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে প্রতীক্ষিত এই অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি সিনেমা। ২০২১ সালের জনপ্রিয় রিবুট চলচ্চিত্র মর্টাল কম্ব্যাট-এর সরাসরি সিক্যুয়েল এটি। আগের সিনেমার পরিচালক সাইমন ম্যাকোয়েড এই সিনেমাটিও পরিচালনা করেছেন। অভিনয় করেছেন কার্ল আরবান, লুইস টান, হিরোয়ুকি সানাদা, জো তাসলিম, অ্যাডলিন রুডলফ, জেসিকা ম্যাকনামি, যশ লসন, লুডি লিন, চিন হান, ডেমন হ্যারিমেন প্রমুখ।
সিনেমাটি পৃথিবী-রাজ্য এবং এর রক্ষকদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য শাও কানের অন্ধকার শাসনের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত ও রক্তাক্ত লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই পর্বে প্রথম সিনেমার চ্যাম্পিয়নরা, এবার জনি কেজসহ মিলে আউটারওয়ার্ল্ডের স¤্রাট শাও কানের অন্ধকার বাহিনীর মুখোমুখি হবে। পৃথিবী-রাজ্য রক্ষার জন্য এটি হবে একটি চরম ও রক্তক্ষয়ী টুর্নামেন্ট। গল্পে দেখা যাবে, আর্থারিয়াম-এর চ্যাম্পিয়নরা একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে নতুনভাবে যোগ দেয় জনি কেজ। কিন্তু পরিস্থিতি সহজ না। আউটওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর সম্রাট শাও কান ক্ষমতায় উঠে আসে। তার শক্তি এতটাই ভয়ংকর যে পুরো আর্থারিয়াম ধ্বংসের মুখে পড়ে। চ্যাম্পিয়নদের নিজেদের মধ্যেই লড়াই করতে বাধ্য করা হতে পারে। এটা হতে পারে মর্টাল কম্ব্যাট টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী অথবা শাও কান তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে। অর্থাৎ, শুধু শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, নিজেদের মধ্যেও সংঘর্ষ দেখা যাবে। মূল সমস্যা হলো শাও কান। তার উত্থান মানেই আর্থারিয়াম-এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। যদি তাকে থামানো না যায়, পৃথিবী আউটওয়ার্ল্ড-এর দখলে চলে যাবে।
সিনেমাটি নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো বিষয় হলো, মর্টাল কম্ব্যাট গেম সিরিজের বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত রয়েছে। যার ফলে আগে থেকেই বড় দর্শকগোষ্ঠী তৈরি ছিল। তাছাড়া ২০২১ সালের সিনেমাটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল। ঐইঙ গধী-এ সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমাগুলোর একটি ছিল এটি। ফলে সিক্যুয়েল নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। জনি কেজের যুক্ত হওয়া, কার্ল আরবানকে নিয়ে আসা- এই বিষয়টাও ভক্তদের মধ্যে বড় হাইপ তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন এটি আগের সিনেমার চেয়ে অনেক ভালো। অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আরও বড় এবং বাস্তবসম্মত। তাই দর্শকরা প্রস্তুত হয়ে যেতে পারেন।
