ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর অধীনে আয়োজিত প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১০ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য একটি টেকসই ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং একাডেমিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) হিট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বাড়ানো। হিট প্রকল্পের কারিগরি অংশীদার হিসেবে ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর পাঠ্যক্রম তৈরি, প্রশিক্ষণের উপকরণ প্রস্তুত, কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
গত ২১ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এই আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন বরেণ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক উপাচার্য, ডিন, কোষাধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালকরা। শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় এসব ব্যক্তি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিল, যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্স এইচই এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে এই কর্মসূচি তৈরি করেন। এতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয় করা হয়েছে। প্রশিক্ষণটি ছিল অংশগ্রহণকারীকেন্দ্রিক এবং এতে ইন্টারঅ্যাকটিভ শিক্ষণপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
১০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা ইন্টারঅ্যাকটিভ কর্মশালা, ব্যবহারিক অনুশীলন, সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দলীয় আলোচনায় অংশ নেন। এতে কৌশলগত সুশাসন, মান নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিকীকরণ, পাঠ্যক্রমে নেতৃত্ব ও শিক্ষার্থী সহায়তা, শিক্ষাদানে উৎকর্ষ ও মূল্যায়ন সংস্কার, গবেষণায় নেতৃত্ব এবং শিল্প-শিক্ষা খাতের মধ্যে অংশীদারিত্বসহ ছয়টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত সেশন, কেস স্টাডি, দলীয় আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে অংশ নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং অ্যাডভান্স এইচই (যুক্তরাজ্য)-এর পরামর্শক ড. বেন ব্রাবন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরামর্শক দলের সদস্য, ব্রিটিশ কাউন্সিল ও হিট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করায় ১৫ জন মাস্টার ট্রেইনারকে সনদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ পরিচালনায় অবদান রাখায় দেশি ও আন্তর্জাতিক ফ্যাসিলিটেটরদেরও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মাস্টার ট্রেইনার ও পরামর্শক দলের সদস্যরা প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাদান, শিক্ষা কার্যক্রম ও একাডেমিক নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানান।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হিট প্রকল্পের অধীনে প্রথম ব্যাচের ১৫ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁরা প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করবেন। তাঁদের মাধ্যমে আরও ন্যাশনাল ট্রেইনার তৈরি করা হবে। এতে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
হিট প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর পরবর্তী ধাপেও নিজেদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে ব্রিটিশ কাউন্সিল। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দেশীয় অংশীদারত্বের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনারদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে দেশের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাদানের মান, একাডেমিক নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।