Tuesday, June 2সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্যে সাক্ষাৎ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মাইকেল মিলার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সবুজ জ্বালানি রূপান্তর এবং পরিবেশ সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড, জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, কার্বন ক্রেডিট, সার্কুলার ইকোনোমি, সবুজ জ্বালানি রূপান্তর এবং আসন্ন COP31-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকার বৃক্ষরোপণ, কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, অভিযোজন সক্ষমতা জোরদার, ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, দেশব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পখাতে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে সাভারের ট্যানারি শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো তুলনামূলকভাবে কম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মুখে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সহজ শর্তে ও সময়োপযোগী জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি সবুজ জ্বালানি রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তি সহজতর করা, নীতিগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং উদ্ভাবনী জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।