Sunday, May 24সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এসডিজি অর্জনে সহায়ক

নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অত্যন্ত জরুরি। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধনের হার অনেক কম, যার অন্যতম প্রধান কারণ আইনগত ও বাস্তবায়নগত দুর্বলতা। আজ শনিবার (২৩ মে), গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শক্তিশালী নিবন্ধন ব্যবস্থা: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞগণ।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৯ এ জন্ম নিবন্ধনসহ সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, যা এসডিজি ১.৩ এর সাথে সর্ম্পকিত। মৃত্যু নিবন্ধন সরাসরি মাতৃমৃত্যু ট্র্যাকিংয়ে সাহায্য করে (এসডিজি ৩.১) এবং শিশুমৃত্যুর হার পরিমাপ করতে জন্ম ও মৃত্যুর রেকর্ড অপরিহার্য (এসডিজি ৩.২)। মৃত্যুর কারণের (কজ-অব ডেথ) সঠিক তথ্য অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় সহায়তা করে (এসডিজি ৩.৪) এবং সময়মতো মৃত্যু নিবন্ধন রোগ নজরদারি (ডিজিজ সার্ভিলেন্স) এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখে (এসডিজি ৩. ঘ)। এছাড়া জন্ম সনদ শিশুদের স্কুলে ভর্তি সহজ করে এবং সঠিক বয়স যাচাইয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করেযা এসডিজি ৪ ও ৫ (শিক্ষা ও জেন্ডার সমতা) অর্জন ত্বরান্বিত করে। কাজেই এসডিজি অর্জনে শতভাগ নিবন্ধন অত্যন্ত জরুরি।

ওয়েবিনারে আরো জানানো হয়বাংলাদেশে বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হাসপাতালে হলেও নিবন্ধনের মূল দায়িত্ব রয়েছে পরিবারের ওপরহাসপাতালের ওপর নয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে জন্ম ও মৃত্যুর পর বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যবস্থা না থাকায় একটি বিশাল অংশ রাষ্ট্রীয় হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। একই সঙ্গেসঠিক পরিসংখ্যানের অভাবে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য খাতের কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এসডিজি অর্জনে সহায়তা করতে নিবন্ধন আইন শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন২০০৪ সংশোধন করে ব্যাক্তির পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর আইনি দায়িত্ব অর্পণ করা হলে সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা এসডিজি অর্জনে অবদান রাখবে

প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক পার্থ শঙ্কর সাহা বলেন, “দেশের অর্ধেক মানুষ নিবন্ধনের বাইরে থাকা এসডিজি অর্জনের পথে একটি বড় অন্তরায়। গণমাধ্যমের দায়িত্ব এই আইনি দুর্বলতাগুলো নীতিনির্ধারকদের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা

ওয়েবিনারে গণমাধ্যমনাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা ও মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।