Friday, June 5সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি

বর্তমানে পৃথিবী ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বেশিরভাগ প্রকল্প ভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদী নয়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর সুফল সাধারণ জনগণ পান না। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা ও নীতিমালা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষায় টেকসই ফলাফল অর্জন সম্ভব। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকমিউনিটিবেসরকারি সংগঠনপরিবারনারীশিশুতরুণসমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আজ ৪ জুন ২০২৬বৃহস্পতিবারসকাল ১১.০০ টায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডাব্লিউএফ)ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডাব্লিউবি) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট এর সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ আগামীর নিরাপত্তা” শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আনিছুর রহমান (এমপি)। অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এর প্রফেসর ড. আকতার মাহমুদচিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডাব্লিউএফ) এর চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরিএবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ্ সুমন।

মেজবাহ্ সুমন বলেনজলবায়ু বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের প্রান্তিক জনগণনারীশিশু ও তরুণ প্রজন্ম। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু সংকটের কারণে নানা তহবিল গঠন করা হলেও এ-ই অর্থ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের কাছে সেভাবে পৌছায় না। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা ও নীতিমালা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষায় টেকসই ফলাফল অর্জন সম্ভব।

শাহ ইসরাত আজমেরি বলেনজলবায়ু সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে নারী ও শিশুরা। যার ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব পরছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর। শিশুদের পরিবার থেকেই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের শিক্ষা দিতে হবে। ব্যক্তিপর্যায়েও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। প্রতিটি মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগায় এবং তা পরিচর্যা করেতবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় অবদান রাখা যাবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষা ও জলবায়ু সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড. আকতার মাহমুদ বলেনজলবায়ু বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনগণ শহরমুখী হচ্ছে। শহরের উপর বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা উন্নয়নের যথার্থ দর্শন বিবেচনায় না নিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের নামে ফিক্সড গ্লাস ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক দালান নির্মান করছি। মাঠ-পার্ক-জলাধার দখল ভরাট করে ফেলছি। এর ফলে শহরের জলাবদ্ধতাতাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশগত বিপর্যয় আমাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ব্যর্থতারই সামগ্রিক চিত্র। যে উন্নয়ন হয়ে গেছে তা পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করার লক্ষ্যে সবুজায়নগণপরিসরজলাধার বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

আনিছুর রহমান (এমপি) বলেনপরিবেশ উন্নয়নে ইতোমধ্যেই সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনতাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণপরিবেশ বান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থানগরের সবুজায়নমাঠ পার্ক সংরক্ষণে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প কারখানায় বর্জ্য অপসারণনদী দখলমুক্তকরণনদী ভাঙ্গন প্রতিহত করানবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারজলাশয় সংরক্ষণে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকার টেকসই অবকাঠামো  গঠনপরিকল্পনা ও বিনিয়োগের উপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এসব কাজ করা সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গাউস পিয়ারী বলেনপরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা জরুরি। শহরমুখী পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে এসে বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন কেবলমাত্র পরিবেশগত বিষয় নয় বরং স্বাস্থ্যশিক্ষানিরাপত্তাঅর্থনীতি সর্বোপরি টেকসই উন্নয়নের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ আগামীর নিরাপত্তা” শুধু একটি প্রতিপাদ্য নয়বরং ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার একটি জরুরি আহ্বান। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।