Sunday, May 24সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত “বিএসআরএফ সংলাপ” অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান।

বিএসআরএফ-এর সভাপতি মাসউদুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসআরএফ-এর সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মন্ত্রী বলেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আসামি একদিনের মধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের দ্রুততম নির্দেশনায় মাত্র ৩ দিনে ডিএনএ এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সম্পন্ন করে গত রাতেই মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আজই আদালতে দাখিল করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মামলাটি পরিচালনা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছে যা ঈদের ছুটিতেও খোলা থাকবে। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বাত্মক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্টে পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “আসন্ন নতুন পাসপোর্টগুলোতে পূর্বের ন্যায় ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ (Except Israel) শব্দগুচ্ছ পুনর্স্থাপন করা হবে। এটি দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রাণের দাবি ও বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত।” মাদক আইনের সংস্কার এবং মামলার জট নিরসন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকা জেলায় প্রায় ৮০ হাজার এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় বিপুল পরিমাণ মাদক মামলা পেন্ডিং রয়েছে। এই মামলার আধিক্য বিবেচনা করে বিশেষ ‘মাদক ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের জন্য আরও একটি যুগান্তকারী আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “১৮৬৭ সালের মান্ধাতা আমলের জুয়া আইন বাতিল (Repeal) করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে পেশ করা হবে।”

মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সমাজের সর্বাঙ্গীণ সংস্কার ও অগ্রগতির জন্য স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। তবে ফ্রিডম অব প্রেস এবং ফ্রিডম অব স্পিচ চর্চার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা (State Security) এবং সামাজিক শৃঙ্খলা (Public Order) বজায় রাখার স্বার্থে যৌক্তিক বিধিনিষেধ থাকা দরকার।” তিনি বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাগামহীন অপব্যবহার, হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং কৃত্রিম ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে পরামর্শমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বিএসআরএফ উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৫ নম্বর গেট ব্যবহারের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন বিধায় সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে স্ক্রুটিনি (যাচাই-বাছাই) করতে হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ ও সিভিল কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)-এর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।