ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বার্তা নিয়ে আজ দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আযহা। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, উৎসাহ ও আনন্দঘন পরিবেশে সারাদেশে পালিত হচ্ছে এই পবিত্র দিনটি।
সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা ময়দানে লাখো মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
ঈদ উল আযহা মুসলিমদের জন্য ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহান আদর্শ স্মরণে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানির পশুর মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তারা ঈদের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলনের আহ্বান জানান।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ঈদকে কেন্দ্র করে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি জোরদার করেছে। পাশাপাশি কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথে ছিল ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ। দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদ উল আযহা উদযাপন করছেন।