Sunday, June 14সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এসটিআই ফোরাম ২০২৬-এ প্রিয়শপ

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বাংলাদেশকে গর্বের সাথে তুলে ধরেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিটুবি রিটেইল-টেক প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ। সম্প্রতি নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের ‘বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (STI) ফোরাম ২০২৬’-এ বিশিষ্ট প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে মাইলফলক সৃষ্টি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফোরামে প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিকুল আলম খান বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাইক্রোসফটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ডিজিটাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ের সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট দূর করার তাগিদ নিয়ে এই ফোরামে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধিত ভোক্তা বাজার। এখানে প্রায় ৫০ লাখের বেশি ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা বা মুদি দোকানি প্রতিদিন মানুষের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু তারা সীমিত পুঁজি, অগোছালো সাপ্লাই চেইন, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অভাব, বিশৃঙ্খল ব্যবসায়িক কাঠামোর সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন।

এই সমস্যা সমাধানে প্রিয়শপ একটি প্রযুক্তি-নির্ভর ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা দেশ-বিদেশের ব্র্যান্ডগুলোকে সরাসরি দোকানিদের সাথে যুক্ত করছে।

বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ২,০০,০০০-এর বেশি মুদি দোকানিদেরকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-এর ৫টি মূল সূচকের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে প্রিয়শপ, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে যেমন, সহজ ঋণ সুবিধা, সরাসরি ব্র্যান্ড থেকে পণ্য কেনা, লজিস্টিকস অবকাঠামো, রিটেইল ইন্টেলিজেন্স, ডিজিটাল কমার্স টুলস এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার।

প্রিয়শপের ৫টি সূচকই পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন যা একদম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছায় (SDG ১, ৮, ৯, ১২ ও ১৩)। তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত তারা সার্বিকভাবে ৫,৪৯০ মেট্রিক টন কার্বন কমিয়েছে, যা পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, দূষণ কমাচ্ছে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে অবদান রাখছে।

জাতিসংঘে এই অর্জন নিয়ে প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আশিকুল আলম খান বলেন: “যে সমস্যার সমাধান আমরা বাংলাদেশ দিয়ে শুরু করেছিলাম, তা আজ বিশ্বের যেকোনো অগ্রগামী দেশ ও তাদের বাজারের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে। পণ্য সরবরাহ, পুঁজি বা আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে কোনো দোকানিই যেন পিছিয়ে না পড়ে, প্রিয়শপ সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।”

জাতিসংঘের ‘এসটিআই ফোরাম ২০২৬’-এর এই মঞ্চে অংশ নেওয়া কেবল প্রিয়শপের একার জন্য নয়, বরং বিশ্ব উদ্ভাবনের মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি দারুণ অধ্যায়।