প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আজ বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা, শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠদান কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা শোনেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদ্যালয়গুলোর সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পরে প্রতিমন্ত্রী প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বান্দরবানে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) প্রশিক্ষনার্থীদের সাথে মত বিনিময় করেন।বক্তব্যে তিনি বলেন,শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, এটি নেতৃত্বের দায়িত্ব। শিক্ষকরা যদি দায়িত্ব নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন, তাহলে দেশের সব শিক্ষার্থী সঠিকভাবে শিক্ষিত হয়ে উঠবে। মন্ত্রণালয়, সচিব, ডিপিইও বা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নয়—মূলত শিক্ষকদের মাধ্যমেই শিক্ষার প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে দেশের অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরে প্রত্যাশিত বাংলা ও গণিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। তিনি বলেন, “আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যতটুকু শেখার কথা, বাস্তবে তার অর্ধেকও শিখছে না। শ্রেণিকক্ষে কোন শিক্ষার্থী কতটুকু শিখছে, তা সবচেয়ে ভালো জানেন শিক্ষকরা। তাই শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে চায়, যাতে শিক্ষকরা অন্যান্য দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন, সে বিষয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, যা শিশুদের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ সময় বান্দরবান জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ গত দুই দিন ও আজ কক্সবাজার এবং বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকার ১০টির অধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন, যাতে ভবিষ্যতে নীতিমালা ও প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও বাস্তবমুখী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।