বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২১Dedicate To Right News
Shadow

অসংক্রামক রোগ হ্রাসে হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহবান

Spread the love

শারীরিক পরিশ্রমের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে হেঁটে যাতায়াতে সক্ষম হলে সকল বয়স ও সামর্থে্যর জনগণ উপকৃত হবে। একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক শহর গড়ে তুলতে হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই।
আজ ৩০ নভেম্বর ২০২৩ সকাল ১০.০০ টায় বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের অডিটোরিয়ামে বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, হেলথব্রীজ ফাউন্ডেশন অব কানাডা এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট-এর সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা প্রমা সাহা। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত মাঠ-পার্কের অভাবে শিশুরা প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, যা ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং শিশুদের মধ্যে নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়। বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের মাধ্যমে সহজেই শিশুদের শারীরিক পরিশ্রমের চাহিদা পূরণ সম্ভব। হেঁটে যাতায়াতের ফলে গাড়ির সংখ্যা কমে দুর্ঘটনা ও যানজট হ্রাস এবং সময় ও যাতায়াত খরচ সাশ্রয় হয়। গাড়ির উপর নির্ভরশীলতা কমে গেলে বায়ু দূষণ হ্রাস করার মাধ্যমেও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল এর প্রতিষ্ঠাতা এম এ মান্নান মনির। তিনি বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ নেই বললেই চলে। খেলাধূলার সুযোগের অভাবে তারা মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের মাধ্যমে শারীরিক কার্যক্রম ও সামাজিকীকরণের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। একটি শহর যদি শিশুদের হাঁটার উপযোগী হয়, তাহলে সকল বয়স ও  সামর্থে্যর মানুষ উপকারভোগী হবেন।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সিনিয়র প্রকল্প ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান বলেন, অসংক্রামক রোগ হ্রাসে শিশুদের বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আমরা ২০১৪ সাল থেকে ‘হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন-সুস্থ রয়’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি পরিচালনা করছি। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে হেঁটে যাতায়াত করলে শরীর ও মন ভাল রাখার পাশাপাশি দূষণ, দুর্ঘটনা, যানজট, জ্বালানী অপচয়সহ বিভিন্ন সমস্যা হ্রাসে অবদান রাখা সম্ভব।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, আজকের এ কর্মশালার মাধ্যমে শিশুরা তাদের হেঁটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও তার জন্য প্রয়োজনীয় সমাধান তুলে ধরেছে। এতে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব প্রদানের দক্ষতাবৃদ্ধি হলো। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা সমাধানের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এডভোকেসি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যা শিক্ষার্থীসহ সকল এলাকাবাসীর জন্য হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
আয়োজনের সভাপতি বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল এর প্রধান শিক্ষক নারায়ণচন্দ্র দাস বলেন, একজন মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটতে হয়। ব্যক্তি যে যাতায়াত মাধ্যমই ব্যবহার করুন না কেন, হাঁটা তার প্রাথমিক যাতায়াত মাধ্যম। কাজেই হাঁটার পরিবেশ উন্নয়নে কোন বিকল্প নেই। আমাদের বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হেঁটে যাতায়াত করে। হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে তারা সকলেই উপকৃত হবে।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে স্কুলে হেঁটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান তুলে ধরে। হেঁটে যাতায়াতের সমস্যা হিসেবে শিক্ষার্থীরা সড়কে নির্মাণকাজের উপকরণ ফেলে রাখা, ফুটপাতে মোটর বাইক চলাচল ও অবৈধ পার্কিং, আবর্জনা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য, অনিরাপত রাস্তা পারাপার, ইভটিজিং, ইত্যাদি এবং সমাধান হিসেবে ফুটপাতে বাইক চলাচল আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধকরণ, প্রতিবন্ধকতাহীন ফুটপাত নিশ্চিত করণ, জেব্রা ক্রসিং প্রদান, ইভটিজিং বন্ধে কমিউনিটি পুলিশের সহায়তা নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি সুপারিশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল এর সহকারি শিক্ষক শামীমা সুলতানা, জাকির হোসেন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা বাঁধন ঘোষ এবং বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *