শুক্রবার, মে ২৪Dedicate To Right News
Shadow

প্রধানমন্ত্রী যার যার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি পালন করার স্বাধীনতা দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছেন: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

Spread the love

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেছেন, আমার ভাষা, আমার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমার জন্য গৌরবের। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সকল সম্প্রদায়ের ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের বিষয় প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যার যার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করার স্বাধীনতা দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল রাতে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা কেন্দ্রীয় মারমা উন্নয়ন সংসদের উদ্যোগে রামগড় মাস্টারপাড়া স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য সাংগ্রাই র‌্যালি শেষে রামগড় উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি এসব কথা বলেছেন।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, যারা নৈরাজ্যকারী, যারা দুস্কৃতিকারী, যারা সমাজের শান্তি নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে একসময় অরাজকতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চলার কারণে আমরা কেউ স্বাধীনভাবে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে আনন্দ উল্লাস করতে পারতাম না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতাপূর্ণ দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে আজ আমরা আনন্দ উল্লাস ও যথাযোগ্য মর্যাদায় আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে পালন করতে পারছি।

প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে বারণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার অধিকার রাখেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা সকল সম্প্রদায়ের উৎসব আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, অন্যান্য সকল সম্প্রদায়ের মতো মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্র্য ও আন্তরিকতা গড়ে ওঠেছে। সাংগ্রাই উৎসব সকল ভাষাভাষি ও সকল সংস্কৃতি কৃষ্টির মাঝে ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল স্রোতধারার সাথে উন্নয়নের সমঅংশীদার করতে চান। আর এজন্যই পার্বত্যবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।

পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে মারমা সম্প্রদায়ের নর নারী, শিশু কিশোররা বিভিন্ন সাজে নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য সংগ্রাই র‌্যালি পরিচালনা করে। র‌্যালিটি রামগড় বিজয় ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ হতে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নতুন স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। এসময় প্রতিমন্ত্রী মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলী খেলা উপভোগ করেন। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয়, সামাজিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রদীপ প্রজ্বলন ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি শিল্পীদের প্রদর্শিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

খাগড়াছড়ির মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ম্রাগ্য মারমা। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে গুইমারা রিজিয়নের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাইসুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলার ডিজিএফআই কমান্ডার কর্ণেল আব্দুল্লাহ মো.আরিফ, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী’র সহধর্মিনী প্রধানশিক্ষক মিজ মল্লিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা প্রসাশক মোঃ সহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম (বার), রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কারব্বারী, রামগড় পৌর মেয়র মোঃ কামার, সাবেক চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *