Friday, October 23সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

ছয় বছরে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের অর্জন: কপিরাইট আন্দোলন থেকে গীতিকবিদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ

বাংলা গানের অন্যতম প্রধান স্রষ্টা গীতিকবিদের অধিকার, মর্যাদা, স্বীকৃতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ছয় বছরে কপিরাইট আইন সংশোধনের দাবি, রয়্যালটি আদায়ে উদ্যোগ, গীতিকবিদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, সম্মাননা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছে সংগঠনটি।

সম্প্রতি গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর সংগঠনটির বিগত ছয় বছরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক গীতিকবি সিরাজুম মুনির।

ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন ও কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের ছয় বছরের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে গেলে ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’র মতো আরেকটি গ্রন্থ প্রকাশ করা সম্ভব। সংগঠনটির সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেছেন।

১/গীতিকবিদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা

২০২০ সালের ৩ জুলাই দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের গীতিকবিদের অংশগ্রহণে প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই বছরের ২৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।

অর্ধশতাধিক গীতিকবির মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের নাম, গঠনতন্ত্র ও সমন্বয় কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। প্রবীণ গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনিরসহ দেশের বরেণ্য গীতিকবিদের সমর্থন ও অংশগ্রহণে সংগঠনটি সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলে।

পরবর্তী সময়ে নিয়মিত কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, নির্বাচন, সাধারণ সভা এবং সদস্যপদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।

২/কপিরাইট আইন সংশোধনে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ

প্রতিষ্ঠার প্রথম মাস থেকেই গীতিকবিদের কপিরাইট ও সৃষ্টিকর্মের অধিকার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

২০২০ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের তৎকালীন রেজিস্ট্রার ও যুগ্ম সচিব জাফর রাজা চৌধুরীর সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনিরসহ সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রস্তাবিত কপিরাইট আইনে গীতিকবিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, গানের মৌলিক স্রষ্টাদের অধিকার এবং বিদ্যমান আইনগত জটিলতা নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। একই মাসে কপিরাইট আইন সংশোধনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়।

২০২১ সালে কপিরাইট আইন সংশোধনসংক্রান্ত অংশীজনদের আলোচনায় গীতিকার ও সুরকারকে যৌথভাবে গানের প্রণেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয় বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে পরবর্তী সংশোধিত আইনের খসড়ায় গীতিকারদের স্বীকৃতি বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সভাপতি সিমিন হোসেন রিমির কাছে বিষয়টি তুলে ধরার উদ্যোগ নেয় গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

সংগঠনটির মতে, গীতিকবিদের সৃষ্টিকর্মের মালিকানা, কপিরাইট ও ন্যায্য রয়্যালটির অধিকার রক্ষায় এসব উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩/ রয়্যালটি নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সাংগঠনিক হস্তক্ষেপ

গীতিকবিদের আর্থিক অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।

২০২৬ সালের অক্টোবরে একজন গীতিকবির রয়্যালটির হিসাবসংক্রান্ত অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন সংগঠনের নেতারা। আলোচনার মাধ্যমে হিসাব পুনরায় প্রদান ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রয়্যালটি নিয়ে ব্যক্তিগত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংগঠনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ গীতিকবিদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

৪/ কপিরাইট অফিসের সহযোগিতায় কর্মশালা

গীতিকবিদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের সহযোগিতায় একটি কপিরাইট কর্মশালার আয়োজন করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

কর্মশালায় কপিরাইট নিবন্ধন, সৃষ্টিকর্মের স্বত্ব সংরক্ষণ, গীতিকবিদের আইনগত অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনটি শুধু সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব গীতিকবির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।

৫/ গাজী মাজহারুল আনোয়ারসহ প্রয়াত গীতিকবিদের স্মরণ

বাংলা গানের কিংবদন্তি গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যৌথভাবে স্মরণসভার আয়োজন করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত গীতিকবির পরিবারের সদস্য, বরেণ্য গীতিকবি, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁর কালজয়ী গান সংরক্ষণ এবং তাঁর নামে স্থাপনা বা সড়কের নামকরণের দাবি উত্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি প্রয়াত কবি ও গীতিকবি জাহিদুল হকের স্মরণে বিশেষ সভা আয়োজন করে সংগঠনটি।

প্রয়াত গীতিকবি কে জি মোস্তফা, কাওসার আহমেদ চৌধুরী, ওমর ফারুক বিশাল ও বর্ণ চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন প্রজন্মের প্রয়াত স্রষ্টাদের অবদান স্মরণ এবং তাঁদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সংগঠনের বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে।

৬/ জীবিত কিংবদন্তিদের সম্মাননা ও ‘গীতিকবি আড্ডা’

প্রবীণ ও বরেণ্য গীতিকবিদের সম্মাননা প্রদান এবং তাঁদের সৃষ্টিশীল জীবন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

২০২০ সালের শেষ দিকে সংগঠনের নেতারা আজীবন সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে ছবিসংবলিত বিশেষ শুভেচ্ছাপত্র পৌঁছে দেন।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১০ মে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ‘গীতিকবি আড্ডা’র প্রথম পর্ব। এতে বাংলা আধুনিক গানের তিন বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, লিটন অধিকারী রিন্টু ও গোলাম মোর্শেদকে সম্মাননা জানানো হয়।

২০২৬ সালের ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় আয়োজনটির দ্বিতীয় পর্ব। এতে অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী ও তরুণ মুন্সী।

এসব আয়োজনে গীতিকবিদের গান লেখার অভিজ্ঞতা, সৃষ্টিশীল জীবন, শিল্পদর্শন এবং বাংলা সংগীতে তাঁদের অবদান তুলে ধরা হয়।

৭/ ১২৯ গীতিকবির সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’

গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা উদ্যোগ ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’।

২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে প্রকাশিত হয় গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ ও অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের যৌথ প্রকাশনার এই সংকলন।

গ্রন্থটিতে প্রবীণ থেকে নবীন ১২৯ জন গীতিকবির সংক্ষিপ্ত জীবনী, আলোকচিত্র, প্রত্যেকের নির্বাচিত ১০টি গানের তালিকা এবং একটি করে পূর্ণাঙ্গ গীতিকবিতা স্থান পেয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নির্বাচিত গানের তথ্য এবং ১২৯ জন গীতিকবির পূর্ণাঙ্গ গীতিকবিতা একত্রে সংরক্ষিত হয়েছে।

প্রকাশনাটির জন্য দীর্ঘ সময় ধরে সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, লেখা সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা এবং প্রকাশকের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

বাংলা গানের স্রষ্টাদের পরিচিতি ও সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৮/ অসুস্থ ও অসচ্ছল গীতিকবিদের আর্থিক সহায়তা

সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অসুস্থ এবং আর্থিক সংকটে থাকা গীতিকবিদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

সংগঠনটির কার্যক্রমের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মোট ৫৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী আর্থিক সংকটে থাকা একজন গীতিকবির চিকিৎসায় সদস্যদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত সংগৃহীত ২২ হাজার টাকা তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এই দুটি নথিভুক্ত উদ্যোগেই মোট ৭৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত আরও গীতিকবির পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

৯/ সদস্য ও পরিবারের চিকিৎসাসুবিধায় হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি

২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষর করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

চুক্তির আওতায় সংগঠনের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এক্সিকিউটিভ হেলথ চেকআপ, কার্ডিয়াক চেকআপ এবং হাসপাতালের নির্ধারিত চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সদস্যদের তথ্য যাচাই ও পরিচয়পত্র প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সংগঠনটির সদস্যকল্যাণমূলক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

১০/ গীতিকবি ও সুরকারদের পৃথক পুরস্কারের দাবি

বাংলা গানে গীতিকবি ও সুরকারদের স্বতন্ত্র অবদানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে পৃথক পুরস্কার ক্যাটাগরি চালুর দাবি উত্থাপন করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

২০২৪ সালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়।

সংগঠনটির দাবি, একটি গানের জনপ্রিয়তার পেছনে কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি গীতিকবি ও সুরকারের মৌলিক অবদান রয়েছে। তাই পুরস্কার ও সম্মাননার ক্ষেত্রেও তাঁদের পৃথক স্বীকৃতি প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

১১/ নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পরিচিতি

২০২৫ সালের ২১ মার্চ বার্ষিক সাধারণ সভায় গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের নিজস্ব ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

ওয়েবসাইটে সদস্যদের প্রোফাইল, সংগঠনের পরিচিতি এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ওয়েবসাইটটির ঠিকানা: https://lyricistsassociationbd.com/

এই উদ্যোগের মাধ্যমে গীতিকবিদের পরিচিতি ও সাংগঠনিক তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন, সদস্যপদ সম্প্রসারণ ও সাংগঠনিক জবাবদিহি

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ।

২০২১-২০২২ মেয়াদের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের পর ২০২২ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়।

২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পরবর্তী মেয়াদের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা, শপথ এবং দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া ২০২৩ সালে ১১ জন নতুন গীতিকবিকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন ও তরুণ গীতিকবিদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

২০২৫ সালের ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক প্রতিবেদন এবং অর্থ সম্পাদক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। একই অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

সংগঠনের বিভিন্ন সাধারণ সভা, ইফতার, সম্মাননা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং গীতিকবি আড্ডার মাধ্যমে প্রবীণ ও নবীন গীতিকবিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অর্জনের পাশাপাশি রয়েছে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

ছয় বছরের কার্যক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও গীতিকবিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বিশেষ করে ন্যায্য রয়্যালটি নিশ্চিত করা, কপিরাইট আইনের কার্যকর প্রয়োগ, গানের মৌলিক স্রষ্টাদের যথাযথ সম্মানী প্রদান এবং গীতিকবিদের পেশাগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে আরও কাজ প্রয়োজন।

এসব বিষয়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে সিরাজুম মুনিরের বক্তব্যে।

তিনি বলেন, “কাজ বাকি থাকা আর কোনো কাজই হয়নি, এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”

সংগঠনের সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমালোচনা হওয়া উচিত তথ্য, ইতিহাস ও বাস্তব অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে।

তাঁর ভাষায়, “একটি স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাফল্য শুধু কতটি অনুষ্ঠান করেছে তা দিয়ে বিচার করা যায় না। কখনো একটি আইনি দাবি, কখনো একজন অসুস্থ সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো, কখনো একজন প্রবীণ স্রষ্টাকে সম্মান জানানো, আবার কখনো শতাধিক গীতিকবির সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।”

গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কর্মকাণ্ডের বিবরণে উঠে এসেছে অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সাংগঠনিক ঐক্য, সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, সামাজিক কল্যাণ এবং পেশাগত স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার বহুমুখী উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অতীতের অর্জনের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে গীতিকবিদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।