বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২১Dedicate To Right News
Shadow

এবার প্রত্ননগরী মুন্সীগঞ্জে ইত্যাদি

Spread the love

দেশকে জানতে এবং জানাতে প্রতিনিয়ত ইত্যাদি যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে পদ্মা-মেঘনা-ধলেশ্বরী-ইছামতি নদী বিধৌত মুন্সীগঞ্জে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে ইছামতি নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী প্রত্ন নিদর্শন ইদ্রাকপুর কেল্লার সামনে-পুকুরের মাঝখানে। কেল্লার আদলে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাসমান মঞ্চ। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল কেল্লার সামনে আর একটি ভাসমান কেল্লা। অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয় ১৪ জুলাই। ইত্যাদির ধারণ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে ছিল উৎসবের আমেজ। কেল্লার সামনের পুরো চত্বর এবং পুকুরের চারপাশ ছিলো দর্শকপূর্ণ। তবে কেল্লা চত্বরে স্থানাভাবে অনেক দর্শকই ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। তাই কেল্লার সামনে রাস্তায় এবং চারিদিকের বাড়িঘরের ছাদেও ছিলো দর্শকদের উপচে পড়া ভীড়। ধারণ চলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও মুন্সীগঞ্জবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ইত্যাদির ধারণ সম্পন্ন হয়। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন হানিফ সংকেতের নির্মাণ কারিশমা। হাজার হাজার দর্শক সুশৃঙ্খলভাবে উপভোগ করেছে তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানের ধারণ। কিছুক্ষণ পরপরই দর্শকদের তালিবৃষ্টি আর আনন্দ চিৎকারে গোটা মুন্সীগঞ্জ শহরই যেন সেদিন আনন্দনগরীতে পরিণত হয়েছিলো।
এবারের অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের সন্তান জনপ্রিয় শিল্পী তাহসান পরিবেশন করেছেন একটি নতুন গান। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সাজিদ সরকার। আমাদের লোকগানের সম্রাট আবদুল আলীমের গাওয়া একটি গান নূতন সংগীতায়োজনে গেয়েছেন সৈকত শিশু জাহিদ, বাদশা আর শাহজাহান। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন আকাশ মাহমুদ। রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলাকে নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে স্থানীয় প্রায় শতাধিক নৃত্যশিল্পীর নাচ। পদ্মাপাড়ে ধারণকৃত গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল ও সুর করেছেন হানিফ সংকেত, সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদি, কণ্ঠ দিয়েছে পুলক ও তানজিনা রুমা। নৃত্য পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম মুকুল।
দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী ধারণস্থান মুন্সীগঞ্জকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্বে নির্বাচিত দর্শকদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন পূর্ব প্রজন্মের শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ এবং বর্তমান প্রজন্মের শিল্পী বালাম। যাদের বাড়িও মুন্সীগঞ্জে। নির্বাচিত দর্শক এবং আমন্ত্রিত শিল্পীদ্বয় গেয়েছেন ফেরদৌস ওয়াহিদের একটি জনপ্রিয় গানসহ তাঁর প্রয়াত ৪ বন্ধু আজম খান, ফিরোজ সাঁই, ফকির আলমগীর এবং পিলু মমতাজের একটি করে জনপ্রিয় গানের অংশবিশেষ।
এবারের অনুষ্ঠানে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সবার সচেতনতা বাড়াতে একটি ছোট্ট নাটিকা করা হয়। এতে অভিনয় করেছেন অভিনয় তারকা মীর সাব্বির, শাহেদ আলী ও শামীম আহমেদ।
শেকড় সন্ধানী ইত্যাদি সবসময়ই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচার বিমুখ, জনকল্যাণে নিবেদিত মানুষদের তুলে ধরার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অচেনা-অজানা বিষয় ও তথ্যভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রতিবেদন প্রচার করে আসছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বেও রয়েছে কয়েকটি হৃদয় ছোঁয়া প্রতিবেদন। রয়েছে মুন্সীগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিভিন্ন প্রতœনিদর্শন এবং কীর্তিমান ব্যক্তিদের উপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। রয়েছে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যে পরিণত হওয়া টিনের ঘর নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার একটি গ্রামের ৪ বোনের জীবন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন। ইত্যাদিতেই প্রথম পরিবেশিত হয় বিশে^র বিস্ময়কর বিষয়ের উপর বিদেশি প্রতিবেদন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বে রয়েছে আমেরিকার শিকাগো শহরের উপর একটি প্রতিবেদন।
মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক যাদু প্রদর্শন করেন প্রবাসী যাদুশিল্পী ফারহানুল ইসলাম। যিনি ব্রাউন ম্যাজিক নামেই বেশি পরিচিত। কানাডা প্রবাসী পেশায় শিক্ষক ফারহান দীর্ঘদিন বিদেশি টেলিভিশনে যাদু প্রদর্শন করলেও দেশের কোন টেলিভিশন পর্দায় এই প্রথম যাদু দেখাবেন।
আমাদের জীবনে গাছের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ গাছ আমাদের অক্সিজেন দিয়ে বাঁচতে সাহায্য করে। ১৫/২০ বছর আগে ইত্যাদিতে দেয়া সেই গাছগুলো দেখতে চেয়ে অনুরোধও করেছেন কেউ কেউ। এবারের পর্বে দেখা যাবে দর্শকপর্বে দর্শকদের উপহার দেয়া গাছের বর্তমান অবস্থা।
এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ মঞ্চে যথারীতি সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে রয়েছে নানি-নাতির কথার মাতামাতি। নিয়মিত অন্যান্য পর্বসহ রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু নাট্যাংশ। টেলিভিশনে ‘বিকৃত উচ্চারণ’ এবং ‘ভাষা ব্যঙ্গ’, ভিউ দিয়ে শিল্পীর মান বিচার, সততার শিক্ষা, অনলাইন যেখানে অফলাইন, তৈল বনাম ভাগ্যগুণ, কৃষকের কথা, অপ্রিয় সত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর রয়েছে বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ। এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন-সোলায়মান খোকা, জিয়াউল হাসান কিসলু, মাসুম বাশার, সুভাশিষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, শবনম পারভীন, মিলি বাশার, আমিন আজাদ, কামাল বায়েজিদ, বিণয় ভদ্র, ইকবাল হোসেন, নিপু, বিলু বড়–য়া, সুজাত শিমুল, মুকিত জাকারিয়া, তারিক স্বপন, আনোয়ার শাহী, সাবরিনা নিসা, নজরুল ইসলাম, সুবর্ণা মজুমদার, জামিল হোসেন, আবু হেনা রনি, আনোয়ারুল আলম সজল, সাজ্জাদ সাজু, জাহিদ শিকদার, বেলাল আহমেদ মুরাদ, রবিন চৌধুরী, বাহার, মতিউর রহমান, রিমু রোজা খন্দকারসহ আরো অনেকে। বরাবরের মত এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন।
গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির এই পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত হবে আগামী ২৮ জুলাই, শুক্রবার-রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *