বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২১Dedicate To Right News
Shadow

চলতি সংসদেই সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশের তাগিদ

Spread the love

তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের কারণে প্রতিদিন বাংলাদেশে ৪৪২ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত ধূমপান এবং তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনটি দ্রুত সংসদে উত্থাপন এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই পাশের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সংসদ সদস্য, গাজীপুর-৫ আসন মেহের আফরোজ চুমকি।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নারী মৈত্রী আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ বাংলাদেশে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে, বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে সে লক্ষ্যেই আইনটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি পাশের জোরালো দাবি জানাচ্ছি। আইনটি দ্রুত পাশ করা গেলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে মাইলফলক হিসাবে কাজ করবে বলে মনে করি। আইনটি যাতে সংসদে অবিলম্বে পাশ হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- তামাক বিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম,এনডিসি,তামাক বিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের আহ্বায়ক এবং মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শবনম জাহান শিলা এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তামাক বিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের সদস্য শিরিন নাঈম পুনম (সাবেক সংসদ সদস্য), ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) প্রোগ্রাম’স ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি। তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তামাকের কারণে যেসব রোগ হচ্ছে, সেই রোগের চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তামাকের কারণে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যত দ্রুত পাশ হবে, তত বেশি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমবে।
মতবিনিময় সভায় তামাক বিষয়ক প্রবন্ধে নারী মৈত্রীর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমম্বয়কারী নাসরিন আক্তার জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধিত খসড়াতে ধুমপানের নির্ধারিত এলাকা বিলুপ্ত, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ, খুচরা বিড়ি-সিগারেট বিক্রি বন্ধ, ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বন্ধ ও সিগারেটের প্যাকেটে সতর্কবার্তার পরিসর ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আইনটিকে আরও শক্তিশালী করবে। ফলে তামাকের কারণে একদিকে যেমন মৃত্যুহার কমবে অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে।
সিটিএফকের প্রোগ্রামস ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ‘তামাক একটি নীরব ঘাতক। তামাকের কারণে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। বর্তমানে আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে আছি, যেখানে আমাদের সবার প্রচেষ্টায় তামাক আইনের সংশোধন করা সম্ভব। তামাক আইন সংশোধনীতে আমরা যদি একদিন বিলম্ব করি, তাহলে এই মৃত্যুর মিছিল আরও বাড়তে থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, আমরা যত এই আইনের সংশোধন করতে পারবো, তত বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারবো।‘
জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫, (সংশোধিত ২০১৩) এর অধিকতর সংশোধনী আনায়নের লক্ষে প্রস্তাবিত যে খসড়াটি প্রণয়ন করেছে, সেটি পাশ হলে দেশে তামাক সেবনকারীদের সংখ্যা কমবে এবং এসজিডির লক্ষমাত্রা ৩ লক্ষ্য পূরণ হবে। আমরা আশাবাদী , যে ৬টি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সবগুলো নিয়েই আইনটির সংশোধন হবে।‘
তামাক বিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য শবনম জাহান শিলা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত মানুষ কর্মক্ষেত্র, রেস্তোরাঁয় এবং গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে পাবলিক প্লেসে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বা ‘ডেজিগনেটেড স্মোকিং জোন’ বাতিলের দাবি জানাই।
তামাক বিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম,এনডিসি, বলেন, বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। নারীরা মুখের ক্যানসার, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া তামাকের কারণে গর্ভবতীদের গর্ভপাত হচ্ছে, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুও হচ্ছে। এজন্য নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ করার দাবি জানাই।
সভায় তামাক বিরোধী সংগঠন,আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মীগণ জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ বিষয়ে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *