Monday, June 29সঠিক সংবাদ প্রকাশে অবিচল
Shadow

ধন্যবাদ বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

  • রেজাউর রহমান রিজভী
ধন্যবাদ আপনাকে, আমার জেনারেশনকে রাঙিয়ে দেবার জন্য।
আজ সকালে যখন খবরটা এলো, বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
যে প্রজন্মের শৈশবে টিভির পর্দায় “নতুন কুঁড়ি” দেখে বড় হওয়া, যারা “পারুল”-এর মতো প্রিয় পাপেট-চরিত্রের সাথে বেড়ে উঠেছি, যাদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল “মনের কথা”র মতো অনুষ্ঠান – আমাদের সবার কাছে মুস্তাফা মনোয়ার নিছক একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন শৈশবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কবি গোলাম মোস্তফার এই সন্তান জন্ম নিয়েছিলেন ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা আর গানের প্রতি ছিল তাঁর গভীর টান। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই যোগ দেন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে, ছবি আঁকার “অপরাধে” জেলেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সেই লাল সূর্যের নকশার অন্যতম স্থপতি ছিলেন তিনি – আমাদের জাতীয় স্মৃতির সাথে মিশে আছে তাঁর হাতের ছোঁয়া।
মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে শিশুদের ভীত, মলিন মুখ দেখে তাঁর মন কেঁদে উঠেছিল। সেই কষ্ট থেকেই জন্ম নেয় তাঁর জীবনের প্রথম পাপেট শো – যুদ্ধের আগুনে পোড়া শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর প্রাণপণ চেষ্টা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই পাপেটশিল্পকেই তিনি নতুন রূপ দিলেন, গড়ে তুলেন বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের ভিত্তি।
পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পকলা একাডেমী – প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে রেখে গেছেন তাঁর সৃষ্টিশীল ছাপ। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে পেয়েছিলেন একুশে পদক, পেয়েছেন আরও অসংখ্য সম্মাননা।
আজ যখন তিনি চলে গেলেন, মনে পড়ছে তাঁর সেই অমোঘ উক্তি – “বড় হওয়া ভালো না, ছোট থাকাই ভালো।” শিশুসুলভ সারল্য আর কৌতুক নিয়েই তিনি বেঁচেছেন পুরো জীবন, আর সেই সরলতাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন কোটি শিশুর মনে।
বিদায় ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ মুস্তাফা মনোয়ার। আপনি আমাদের শৈশবকে রাঙিয়ে দিয়ে গেছেন, আমাদের কল্পনাকে দিয়েছেন রঙিন পাপেটের রূপ। আপনার সৃষ্টি বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্মে।
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।