সোমবার, অক্টোবর ৩Dedicate To Right News
Shadow

তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পূরনে বিশ্ব সম্মেলনের নবম অধিবেশন

Spread the love

তামাক সেবন একটি বৈশ্বিক মহামারী। এই মহামারী মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল বা এফসিটিসি-র মত একটি হাতিয়ার আছে। ৮ নভেম্বর এই এফসিটিসি বাস্তবায়নে রষ্ট্রপক্ষের নবম অধিবেশন (কপ-৯) শুরু করেছে। সম্মেলনে প্রায় ২০০টি রাষ্ট্রপক্ষ এফসিটিসির আটিকেল ও গাইডলাইন সমূহের বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধরণ করবে। এফসিটিসি মানুষকে তামাক গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে, বন্ধ করার প্রচার এবং ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বৃহত্তর জনসংখ্যাকে রক্ষা করে।

৮ নভেম্বর সকালে সুইজারল্যন্ডের রাজধানী জেনেভায় উদ্বোধনী অধিবেশনের উদ্বোধন করেন কনভেনশন সেক্রেটারিয়েটের প্রধান ডক্টর আদ্রিয়ানা ব্ল্যাঙ্কো মারকুইজো। তিনি বলেন, “তামাকের ব্যবহার উন্নয়নের জন্য একটি চলমান সমস্যা তৈরি করে, কারণ এটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়।” তিনি এফসিটিসির রাষ্ট্রপক্ষগুলোকে তামাক মহামারীর মূল সমাধান হিসাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল-এর ব্যাপক বাস্তবায়নের এবং এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ বছর নবম অধিবেশন কার্যত কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।

ডঃ আদ্রিয়ানা ব্লাঙ্কো মারকুইজো জলবায়ু পরিবর্তনের উপর চলমান কপ ২৬-এর কথাও উল্লেখ করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন এবং ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “উভয় চুক্তির লক্ষ্য বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করা। এটা স্পষ্ট যে, তামাক তার জীবনচক্র জুড়ে পরিবেশের ক্ষতি করে, ফসল থেকে ভোক্তা-পরবর্তী বর্জ্য পর্যন্ত, বন উজাড়, মরুকরণ, গ্রীনহাউস নির্গমন এবং প্লাস্টিক দূষণে অবদান রাখে। তবে সম্ভবত উভয় কপ-এ শেয়ার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে তামাক মহামারী এবং জলবায়ু পরিবর্তন উভয়ই মানবসৃষ্ট এবং প্রতিরোধযোগ্য।”

৮ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কপ-৯ প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট, জাতিসংঘের সংস্থা, অন্যান্য আন্তঃসরকারি সংস্থা এবং সুশীল সমাজকে একত্রিত করে অংশগ্রহণকারীরা তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। তারা এমন কৌশলগুলোও দেখবে যা তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে উন্নত করে, তামাক ব্যবসার মাধ্যমে তামাক মহামারী যা বার্ষিক ৮ মিলিয়নেরও বেশি লোককে হত্যা করছে তা শেষ করতে রাষ্ট্র পক্ষগুলো হস্তক্ষেপ করার উদ্যোগ নেবে।

সাম্প্রতিক গ্লোবাল অগ্রগতি প্রতিবেদন গত সপ্তাহে চালু হয়েছে, এটিও সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। মোট ১৪৮টি রাষ্ট পক্ষ চুক্তিতে থাকা ব্যাপক তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট করেছে। উদাহরণস্বরূপ, অনুচ্ছেদ ১১ অগ্রগতির ক্ষেত্রে, দুই-তৃতীয়াংশ পক্ষ নিশ্চিত করেছে যে তামাকজাত পণ্যের প্যাকেজিংয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কতাগুলি প্রদর্শিত হচ্ছে এবং ১৭টি দেশ নিশ্চিত করেছে যে তারা তামাকজাত পণ্যের প্লেন প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করেছে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে পর্যাপ্তভাবে শক্তিশালী করার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থানের অভাব আছে। তাই একটি মূলধন বিনিয়োগ তহবিল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনার জন্য নবম অধিবেশনের এজেন্ডা ভূক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রগুলো তামাক মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করার জন্য নতুন আয়ের প্রবাহের জন্য একটি প্রক্রিয়া গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এবার কপ-৯ এর পরপরই, ১৫ -১৮ নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত তামাকজাত পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য নির্মূল করার জন্য প্রোটোকলের ১৫ নং অনুচ্ছেদ আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষগুলোর দ্বিতীয় সভা আহ্বান করা হয়েছে।

সরকার এবং তামাক বিরোধী প্রতিষ্ঠান সমূহের কাছে এই অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। ইউনাইটেড কিংডম, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। তবে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলো, বিশ্বের ১.৩ বিলিয়ন তামাক ব্যবহারকারীর ৮০% এর বেশি এবং এই সমস্ত দেশে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মানুষের তামাক আসক্তি এবং তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা রাষ্ট্রে কাছে বোঝা হিসেবে বিদ্যমান এবং এই বৈশ্বিক মহামারীকে আরও স্থায়ী করে। তামাক কোম্পানির কৌশল প্রতিহত করার জন্য সম্পদ এবং রাজনৈতিক ইচ্ছা খুবই জরুরী।

এফসিটিসি তামাকের বিপণন, ধূমপান-মুক্ত স্থানের প্রচার, এবং এই জাতীয় পণ্যগুলির সাথে অধূমপায়ীদের এক্সপোজার সীমিত করতে চায়। তাই আইন প্রয়োগ করার পাশাপাশি তামাক কোম্পানির উপর আরও নিয়ন্ত্রণ এবং বর্ধিত কর আরোপের দাবি করা প্রয়োজন। তামাক ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে আইন সমূহকে দুর্বল করার জন্য তামাক কোম্পানি কখনও কখনও প্রকাশ্যে,কিন্তু প্রায়ই গোপনে তৎপরাতা চালায়। ২০১৮ সালে, বিশ্বের ছয়টি বৃহত্তম সিগারেট কোম্পানি ৫৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মুনাফা করেছে – যা কোকাকোলা, পেপ্সিকো, নেসলে, ফিডএক্স, জেনারেল মিলস, মোন্ডিলেজ, স্টারবার্গস, হেনিকেন, সালস্‌বার্গ-এর সম্মিলিত লাভের চেয়ে বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.