মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৭Dedicate To Right News
Shadow

সুলতানা’স ড্রিমের কর্মশালা শুরু

Spread the love

১৬জন নারী নির্মাতাদের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো সুলতানা’স ড্রিমের প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের কর্মশালা। আর এই কর্মশালা থেকেই সেরা দুইজন নির্মাণ করতে পারবেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স শিরোনামে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
র্ফামগেটের সুলতানা’স ড্রিম কার্যলয়ে শুক্রবার মাসব্যাপি কর্মশালার শুরুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রকার রুবাইয়াত হোসেন, গ্যেটে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের পরিচালক ক্রিশ্টান হ্যাকেনব্রোক, চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক সাদিয়া খালেদ ঋতি, মনস্তাত্ত্বিক সৈয়দা ইফফাত হোসেন, চলচ্চিত্র প্রযোজক আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা তাসমিয়াহ্ আফরিন মৌ, মেহেদি হাসান, চৈতালী সমাদ্দার, শব্দ প্রকৌশলী নাহিদ মাসুদসহ আরো অনেকে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া ১৬ প্রতিযোগী হলেন- লাবনী আশরাফ, আতশী কর্মকার, ফাতিহা তাইরা, জাহারা নাজিফা নোভা, নুসরাত জাহান ইশাত, ফারাহ জলিল, আফ্রিদা মেহজাবীন, ফারিয়া বেগম রাইয়া, ফাজানা নূর, নেহা শামীম, ফারিয়া মানার, মনন মুনতাকা, মাহমুদা আক্তার মনিশা, প্রাচিতা অহনা আলম, তিজাইয়া থমাস এবং মো. শিহাব।
এই আয়োজন প্রসঙ্গে রুবাইয়াত হোসেন বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে আমার সর্ম্পক প্রায় একযুগ। আমি দেখেছি দেশে নারী নির্মাতা একেবারে হাতে গোনা। চলচ্চিত্র নির্মাণে তারা বৈষম্যের শিকার। আমার মনে হয়েছে বৈষম্যের এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে বেশি করে নারী নির্মাতাদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে আমরা যারা আছি, তাদের সাথে আরো মেয়েদের চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু তার আগে দরকার মেয়েদের চলচ্চিত্র নির্মাণ শেখানো। সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই আয়োজন।
১৬ জন নির্মাতাকে আগামী একমাস কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেবেন চিত্রনাট্যকার ফিলিপ বাহরিয়ে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা তাসমিয়াহ্ আফরিন মৌ, মেহেদি হাসান, চৈতালী সমাদ্দার, চলচ্চিত্র প্রযোজক আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ, পাকিস্তানের অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সিমাব গুল, পাকিস্তানের চলচ্চিত্র নির্মাতা সিয়াম সাদিক, ভারতের চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রডাকশন ডিজাইনার জোনাকী ভট্টচার্য্য, ভারতের ফিল্ম কিউরেটর মিনাক্ষি শেড্ডি, বাংলাদেশের শব্দ প্রকৌশলী নাহিদ মাসুদ, চিত্রগ্রাহক বরকত হোসেন পলাশ এবং মনস্তাত্ত্বিক সৈয়দা ইফফাত হোসেন।
এই সুলতানা’স ড্রিমের আয়োজনের সহ-আয়োজক হিসেবে থাকছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খনা টকিজ। পরিবেশকের দায়িত্বে থাকছে গ্যেটে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ। এছাড়া নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো দেশব্যাপী প্রদর্শিত হবে।
উল্লেখ্য সুলতানা’স ড্রিম বা সুলতানার স্বপ্ন, দক্ষিণ এশিয়ায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একটি গল্প। এটি ১৯০২ সালে লেখাটি প্রকাশিত হয় দ্য ইন্ডিয়ান লেডিস ম্যাগাজিনে। যেখানে বেগম রোকেয়া তার কল্পনার জগতকে দেখেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তার কল্পনার জগতে ছেলেরা অন্দর মহলে অবস্থান করে বিধায় মেয়েরা কোন ভয় এবং সংকোচ ছাড়াই বাইরের জগতে বিচরণ করতে পারে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাই যে বাংলাদেশে নারীদের প্রতিসহিংসতার ঘটনা ঘটেই চলছে। নারীর প্রতিসহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজন।ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে যেখানে মেয়েরা নিজেদের সাথে বা আশে পাশে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনা গুলো কোন রকম সংকোচ ছাড়াই জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *