- গুলশান চৌধুরী
শহর থেকে দূরে, অনেক দূরে…
সবুজ লতা পাতায় ঘেরা ছাওনি,
খোলা উন্মুক্ত দো-চালা।
নেই দরজা নেই জানালা
তবুও সাধ হয় থেকে যাবার
যেনো বর্ষাকে আলিঙ্গন করতেই সমস্ত আয়োজন!
আছে উচ্ছ্বাস সবুজের হাতছানি আর
বর্ষার একগুচ্ছ কদমফুলের অপেক্ষা!
কিন্তু কোথায় কদমফুল
নিধন হওয়া বৃক্ষের
খপ্পরে পরে কদমফুলের গাছ যে আজ
শূন্যের কোঠায়!
সকাল যায় দুপুর যায় বিকেল আসে ঘনিয়ে
সন্ধ্যার আগমন তাকে হতবিহ্বল করে তোলে।
কেমন করে মিটাবে সে কদমের তৃষা?
হাত বাড়িয়ে একগুচ্ছ কদমফুল
ঝুম বৃষ্টিকে আলিঙ্গন করেই
ধরতে চায় ।
বৃষ্টির ঝাপটায় ভেজে শরীর
মনে লাগে দোলা।
বৃষ্টি হাওয়ায় উড়ে যায় ভেজা শাড়ির আঁচল
এলোমেলো উড়ন্ত চুল
অবাধ্য হাওয়ার কাছে অসহায়ত্ব মেনে নেওয়া ছাড়া
আর কি-ই-বা করার আছে!
তাকে যায় না ধরা, যায় না ছোঁয়া
শুধুই অপেক্ষা, অনুভব আর অবগাহন,
শুভ্র কদমফুলের বাসনা নিয়ে ছুটে চলা।
হঠাৎ শূন্য হাতে সে ফিরে আসে
কদম ফুলের সন্ধানে কেটেছে
তার প্রতিটি প্রহর।
আশাহত কিন্তু প্রার্থনা ফুল নয়
গাছের জন্য।
মৌন বিষন্নতার কাছে নিজেকে সঁপে তাই সে কদমবিহীন
কাঁপা কাঁপা হাতেই রাখে হাত আলিঙ্গনেই কাটাতে চায়
অপেক্ষার বিমর্ষ মুহূর্ত।
মনে হয় সব কেমন যেনো এক
মায়াবী কায়া
অবচেতন মন তবুও শুধুই
খুঁজে ফেরে কদমফুল
কদমবিহীন আলিঙ্গনের মুগ্ধতা নিয়ে
স্পর্শে জাগে শিহরণ
তারপর!
সে এলেও ফিরে চলে যায়
রেখে যায় মায়া!!